দেশে কৃষি খানার সংখ্যা ৩ শতাংশ কমেছে

image

দেশ ধীরে ধীরে শিল্পের দিকে আগ্রসর হওয়ায় কৃষি খানার সংখ্যা কমেছে। ২০০৮ সালে কৃষি খানার হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০১৯-এ এসে প্রায় ৩ শতাংশ কমে কৃষি খানার হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৮২ শতাংশে। রোববার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিবিএস ভবনে কৃষি শুমারি-২০১৯’এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

কৃষি শুমারি-২০১৯’এর প্রাথমিক প্রতিবেদন বলা হয়, দেশে বর্তমানে মোট খানার সংখ্যা ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার ১৮০টি। এর মধ্যে শহরে ৫৯ লাখ ৮ হাজার ২০৫টি এবং পল্লীতে ২ কোটি ৯৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭৫টি খানা রয়েছে। আর কৃষি খানার সংখ্যা এ মুহূর্তে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪টি। এর মধ্যে শহরে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৫টি এবং গ্রামে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪৫ হাজার ১১৯টি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিজের জমি নেই এমন পরিবার সবেচেয়ে বেশি রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে প্রতি হাজারে ৬৪৮টি পরিবারের নিজস্ব জমি নেই। রাজশাহী বিভাগে প্রতি হাজারে ২৪১টি পরিবারের নিজস্ব জমি নেই। এছাড়া রংপুর বিভাগে প্রতি হাজারে ৩১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৭৫টি, খুলনা বিভাগে ২৬৯টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬৯টি, সিলেটে বিভাগে ২২১টি এবং বরিশাল বিভাগে প্রতি হাজারে ৯২টি পরিবারের নিজস্ব জমি নেই। তবে প্রকল্প পরিচালক জাফর আহমেদ জানান, নিজস্ব জমি নেই মানে ভূমিহীন নয়। অনেক সময় নিজের নামে জমি না থাকলেও তার বাবা বা দাদার নামে থাকতে পারে।

শুমারিতে মৎস্য খানা, কৃষি মজুর খানা, নিজস্ব জমি নেই এমন খানা, অন্যের কাছ থেকে জমি নিয়েছে এমন খানা ও মৎস্য চাষাধীন জমি আছে এমন খানার সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মৎস্য খানার সংখ্যা ৯ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৫টি। এর মধ্যে শহরে ৩১ হাজার ৮৭টি এবং পল্লীতে ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮টি। কৃষি মজুর খানার সংখ্যা ৯০ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৭টি। এর মধ্যে শহরে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩১টি এবং পল্লীতে ৮৯ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪৬টি খানা রয়েছে। নিজস্ব জমি নেই -এমন খানার সংখ্যা ৪০ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯টি। এর মধ্যে ১৭ লাখ ৯১৯টি খানা শহরে এবং পল্লীতে ২৩ লাখ ২৩ হাজার ২৭৯০টি। অন্যের কাছ থেকে জমি নিয়েছে এমন খানার সংখ্যা ৬৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৭টি। এর মধ্যে শহরে ২ লাখ ২৯ হাজার ২৪৫টি এবং পল্লীতে ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৪২টি। মৎস্য চাষাধীন জমি আছে এমন খানার সংখ্যা ১৬ লাখ ৫ হাজার ১৮৫টি। এর মধ্যে শহরে ৫৩ হাজার ৫টি এবং গ্রামে ১৫ লাখ ৫২ হাজার ১৮০টি।

গৃহপালিত এসব পশুপাখির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মুরগির সংখ্যা। এরপর যথাক্রমে রয়েছে হাঁস, গরু, ছাগল, টার্কি, ভেড়া ও মহিষ। মুরগির সংখ্যা ১৮ কোটি ৯২ লাখ ৬২ হাজার ৯০১টি। এর মধ্যে শহরে মুরগির সংখ্যা ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬টি এবং পল্লীতে ১৮ কোটি ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫টি। হাঁসের সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লাখ ২৯ হাজার ২১০টি। এর মধ্যে শহরে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ১৮৮টি এবং পল্লীতে ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ২২টি। টার্কির সংখ্যা ১৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪২০টি। এর মধ্যে শহরে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১১৬টি এবং পল্লীতে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৪টি। গরুর সংখ্যা ২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫টি। এর মধ্যে শহরে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৯২৭টি এবং পল্লীতে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮৮টি। মহিষের সংখ্যা ৭ লাখ ১৮ হাজার ৪১১টি। এর মধ্যে শহরে ২১ হাজার ৬০টি এবং পল্লীতে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫১টি। ছাগলের সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি। এর মধ্যে শহরে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৯টি এবং গ্রামে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৭৩ হাজার ৮৪৪টি। ভেড়ার সংখ্যা ৮ লাখ ৯২ হাজার ৬২৮টি। এর মধ্যে শহরে ৩০ হাজার ৭২২টি এবং পল্লীতে ৮ লাখ ৬১ হাজার ৯০৬টি।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. রইছউল আলম ম-ল জানান, দেশের কর্মপরিকল্পনার জন্য নির্ভুল ডাটা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে কৃষি শুমারির ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করাও দরকার। কারণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নানা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ডিমের উৎপাদন কত, প্রতিদিন কত মিলিমিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে, মাছের উৎপাদন কত এবং এর মধ্যে ইলিশ, চিংড়ি ও মিঠা পানি থেকে মাছের উৎপাদন কত-এসব তথ্যও কৃষি শুমারিতে থাকা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু নেই। আগামী কৃষি শুমারিতে এগুলো যুক্ত করা যায় কি-না, তা বিবেচনার অনুরোধ রইল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানও অভিযোগ করে জানান, এ কৃষি শুমারিতে অনেক শবজি/ফল বাদ পড়েছে। সেগুলো যুক্ত থাকা দরকার ছিল। এর জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমাদের সচিবও আছেন এখানে, আগামীতে যেসব কাজ হবে সেখানে আপনারা আরও নীবিড়ভাবে সেখানে যুক্ত থাকবেন যাতে করে এ ধরনের ছোটখাট ভুল যেগুলো থাকে, এগুলো এড়ানো যায়। কারণ, ছোটখাট ভুল হলেও এগুলোর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিদেশি নয়, দেশি কৃষি জাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যেই দেশের মঙ্গল নিহিত রয়েছে উল্লেখ করে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ দেয়ার নির্দেশ দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সম্পদ সচিব রইছউল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রকল্প পরিচালক জাফর আহমেদ খান।