পুঁজিবাজারে শুদ্ধি অভিযান চায় বিনিয়োগকারীরা

image

পুঁজিবাজারে মানুষের আস্থা ফেরাতে ক্যাসিনোর মতো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), আইসিবি ও বিভিন্ন ইস্যু ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে বিএসইসি চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন ও সব কমিশনারদের অপসারণের দাবিসহ ২১ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মিজান উর রশিদ। সংগঠনটি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৯ বছর ধরে বাজার পতনে পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সংগঠনের সভাপতি মিজান উর রশিদ বলেন, গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাজারের সার্বিক প্রেক্ষাপট, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে সংগঠনটি। কিন্তু পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা এখনও ফিরে আসেনি।

সংগঠনটি জানায়, পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকে শুরু করে অধিকাংশ স্টোক হস্তান্তরের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা রয়েছে, ডিএসই ও সিএসই, আইসিবি, বিএসইসির অসাধু কয়েকজন কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট পুঁজিবাজার ধসের মূল কারণ। সেকেন্ডারি মার্কেটের আদলে বা সমান্তরালে অনৈতিক প্লেসমেন্ট বাণিজ্য ও দুর্বল কোম্পানির আইপিওতে তালিকাভুক্ত করে বিনিয়োগকারীদের সর্বস্বান্ত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতিবাজ ও অসাধু ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাইব্যাক আইন পাস, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করা শেয়ারগুলো নিজ নিজ কোম্পানিকে ইস্যু মূল্যে বাইব্যাক করতে হবে, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে আগামী ৩ বছর পর্যন্ত সব ধরনের আইপিও, রাইট শেয়ার ইস্যু বন্ধ রাখতে হবে, প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি, ডাইরেক্ট লিস্টিং পদ্ধতি বাতিল করতে হবে, সিসি আইনের বাস্তবায়ন করতে যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই, সেসব উদ্যোক্তা পরিচালক ও কোম্পানিগুলোকে শেয়ার ধারণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, স্বচ্ছ ও ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার লক্ষ্যে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গঠন করা ‘আইপিও রিভিউ টিম’কে ধান্দার নতুন পথ। ‘ডিএসই যে টিম গঠন করেছে তাতে একজন বিচারপতি ও একজন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা রাখা হয়েছে। এই দু’জনের স্বচ্ছতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু তাদের সামনে রেখে ডিএসইর অসাধুরা ধান্দার নতুন ফাঁদ পাতবেন। এই টিম দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ডিএসইর অসাধু কর্মকর্তারা যোগসজশ করে বাজারে দুর্বল কোম্পানি আনছে। বাজারের যে দুরবস্থা তার জন্য সব থেকে বেশি দায়ী বিএসইসি। আমাদের সন্দেহ এই টিম গঠন করে ডিএসইর পরিচালকদের একটি অংশ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাণিজ্যে মেতে উঠবে। সেই সঙ্গে অবৈধ প্লেসমেন্ট সুবিধা নেবে। ডিএসইর টিমের ওপর আমাদের কোন আস্থা নেই।

এদিকে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পরামর্শে ২৮ অক্টোবর ৬ সদস্যের আইপিও রিভিউ টিম গঠন করে ডিএসই। ডিএসইর দাবি এই টিম গঠনের ফলে আইপিওতে স্বচ্ছ ও ভালো কোম্পানি আসবে। ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানকে প্রধান এবং লিস্টিং বিভাগের প্রধানকে সদস্য সচিব করে গঠন করা ডিএসইর আইপিও রিভিউ টিমে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে- ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটোয়ারীকে।

ডিএসই জানিয়েছে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন করা কোম্পানির প্রসপেক্টাস পর্যালোচনার জন্য এ কমিটি কাজ করবে। এ জন্য বিভিন্ন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক বিশ্লেষক এমন ১০-১৫ জন বাছাই করে এক্সপার্ট প্যানেল করবে কমিটি। একটি কোম্পানির প্রসপেক্টাস পর্যালোচনা করতে এক্সপার্ট প্যানেলে থাকা বিভিন্ন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক বিশ্লেষকদের মধ্য থেকে কমপক্ষে দু’জন এবং সর্বোচ্চ তিনজন কাজ করবেন।