মধ্যম-উচ্চ আয়ের দেশে উত্তীর্ণ সময়ের ব্যাপার মাত্র : পরিকল্পনামন্ত্রী

image

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে এমএ মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশ মধ্যম ও উন্নত আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন তাতে অতি শীঘ্রই আমরা উন্নত দেশে পরিণত হবো। ৮ মে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু একাডেমি নামের একটি সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশ প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকলে মধ্যম ও উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার। অতি শীঘ্রই আমরা উন্নত দেশে পরিণত হব। আমি পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রী (অর্থ) ছিলাম। তখন আমি দায়িত্ব পালন করেছি, এখন দেখছি। শেখ হাসিনার কাছে যত পরিকল্পনা নিয়ে যাই প্রতি মঙ্গলবার প্রতিটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েই বলেন- বলুন তো এই কাজটি করলে আমার গ্রামের গরিব দুঃখী মানুষের কি উপকার হবে, গ্রামের কৃষক কি পাবে, জেলে কি পাবে, প্রতিবন্ধী ভাইবোনেরা কি পাবে, নারীরা কি পাবে, মুক্তিযোদ্ধারা কি পাবে? তাকে বোঝাতে হয়। তিন ঘণ্টা চার ঘণ্টা আলোচনা হয় পাঁচ সাতটা প্রকল্প নিয়ে। তাকে বুঝিয়ে তার হাত থেকে প্রকল্প আনতে হয়। তার সব চিন্তা- চেতনার কেন্দ্র বাংলার দরিদ্র মানুষ।

শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন আপনি যেখানেই যান বাংলাদেশের নাম। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বলুন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলুন, চায়না ব্যাংক বলুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলুন যারা স্বাধীনতার সময় আমাদের পক্ষে ছিল না তারাও এখন আমাদের সমীহ করে কথা বলে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বলেন, চীন বলেন, আমাদের কাছের বন্ধু ভারতও সকাল-সন্ধ্যা আমাদের খোঁজ খবর নিতে বাধ্য হয়। ফোন করে দিদি কি করছেন, কি করা যায় বুদ্ধি দেন। এটা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের ফলে। তার ওপর কত ধরনের ঝুঁকি গিয়েছে, কিন্তু তিনি কাঁপেন না।

বিএনপির মধ্যে থাকা ‘প্রতিক্রিয়াশীলরা’ শেখ হাসিনাকে ‘ঘায়েল’ করতে চাইলে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শত্রু শেষ নয়। শত্রু এখনও আছে এই দেশে। বঙ্গবন্ধু তাদের হাতে প্রাণ দিয়েছেন। যে শত্রুকে তিনি নিশ্চিহ্ন করেছিলেন, সেই শত্রু থেকে শত্রু জন্ম হয়েছে। আজকে যেই শত্রুকে শেখ হাসিনা লণ্ডভণ্ড করেছেন, বিএনপিকে লণ্ডভণ্ড করেছেন, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। এই বিএনপির মধ্যেই যারা প্রতিক্রিয়াশীল আছেন বিভিন্ন কোণায় কোণায় তারা আবার একত্র হয়ে চেষ্টা করবে শেখ হাসিনাকে কিভাবে ঘায়েল করা যায়। বাংলাদেশকে কিভাবে আবার তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়। এটা রুখে দেয়ার জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের মূল ধারার লোকজন একত্রিত থেকে নেত্রীকে শক্তি যোগালে এই অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, আমার যেটুকু বিশ্বাস, সামান্য যতটুকু কাজ বাকি আছে মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়া, উন্নত দেশে প্রবেশ করা- সেটা সম্ভব হবে। আমাদের সামনে পথরেখা আছে। তিনি সব সময় বাংলার আগামী দিন আর বাংলার বর্তমানের জন্য ভাবেন। তাকে নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক সহায়তা দিতে হবে।

এম এ মান্নান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে নানা ধরনের অপকৌশল, ষড়যন্ত্র অবলম্বন করা হয়েছিল বছরের পর বছর তা প্রতিহত করে তাদের লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে তিনি এখন বাংলাদেশের মানুষের নেতৃত্বে শক্ত অবস্থানে আছেন। এই উপমহাদেশে মুসলিম লীগ প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির প্রধান ভূমিকায় যারা ছিল, আমাদের লক্ষ্যই ছিল ওদের সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াশীলতা, অবিচার থেকে রক্ষার জন্য আমরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লড়াই করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যেভাবে এদেশে বৃহত্তম প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি মুসলিম লীগকে ধ্বংস করেছিল, লণ্ডভণ্ড করেছিল সেভাবে আজকে তার সুযোগ্য কন্যা নব্য প্রতিক্রিয়াশীলদের, যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জমায়েত হয়েছিল, বিএনপি নামের দল করে তারা দেশটাকে নিজেদের লুণ্ঠনক্ষেত্র করতে চেয়েছিল। এটাকে কৌশলে, বুদ্ধিতে এবং চরিত্রের গুণে সততার দ্বারা মানুষের মন জয় করে বিশ্ববাসীর মন জয় করে শেখ হাসিনা নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছেন। মুসলিম লীগ যেভাবে লণ্ডভণ্ড হয়েছিল বিএনপিও লণ্ডভণ্ড। বিএনপির অবস্থান এখন কোথায়? তারা মানুষের কাছে এখন হাসির পাত্র হয়ে গিয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার শক্তিশালী নেতৃত্বের জন্য। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফফর হোসেন পল্টু, বঙ্গবন্ধু একাডেমির সভাপতি নাজমুল হক, মহাসচিব হুমায়ূন কবির মিজি উপস্থিত ছিলেন।