রাজস্ব বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি করা হবে : অর্থমন্ত্রী

image

সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে না পারলে অর্থনীতির গতি বা গভীরতার সঙ্গে তার কোন মিল থাকে না। আমাদের এ কাজটা করতে হবে। রাজস্ব আদায়ে আউট সোর্স হিসেবে ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ২৩ মে বৃহস্পতিবার অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সৌজন্যে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতির আকার অনুযায়ী যে রাজস্ব আদায় হয়, তা প্রায় অর্ধেক। রাজস্ব আদায় বাড়াতে এসব জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। আমাদের ট্যাক্স জিডিপির অনুপাত মাত্র ১০ শতাংশ। যেখানে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় এটা ১৮-১৯ শতাংশ। এখন যদি আমাদের রাজস্ব আদায় সোয়া ৩ লাখ কোটি টাকা হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের আরও সোয়া ৩ লাখ কোটি টাকা পেতে হবে। খুব দুঃখজনক বিষয় যারা ট্যাক্স দেয়, শুধু তারাই দেয়। যাদের দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তারা কোন ট্যাক্সই দেয় না। সুতরাং আগামী বাজেটে আমরা কোনভাবেই করের হার বাড়াব না। তবে যারা কর দেয় না, তাদের করের আওতায় নিয়ে আসব।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যারা ট্যাক্স দেয়ার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু দিচ্ছে না, তাদের কাছে পৌঁছব। তাদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করব। এজন্য আমরা প্রথম বছর আউটসোর্স হিসেবে ১০ হাজার জনবল বাড়াব। এসব জনবল হবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া যারা কোন কাজ পাচ্ছে না, তাদেরও আউটসোর্স হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। আমরা প্রত্যেক উপজেলায় ট্যাক্স অফিস নিয়ে যাব। আগামী জুলাইয়ে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন শুরু করব। তবে এটা প্রথম থেকেই পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। সম্প্রতি একটি জরিপে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকা ও বড় বড় শহরে প্রায় নয় লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রথমে বড় বড় জায়গায় এটা বাস্তবায়ন করা হবে। ভ্যাট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা আয়করের বিষয়টি জনগণের কাছে নিয়ে যাব। করফাঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কর এলাকায় যে দুর্নীতি আছে তা যদি বন্ধ করতে পারি তাহলে আমাদের কর আহরণ সঙ্গত কারণেই ডাবল হবে। এখন মিস ডিক্লারেশন দিয়ে আমদানি করা হয়। রপ্তানি করা হয় মিস ডিক্লারেশন দিয়ে। যেসব আইটেমের ওপর ডিউটি আছে সেসব আইটেমগুলো আসছে অন্য নাম দিয়ে, যেগুলোর ওপর ডিউটি নেই। এই যে মিসম্যাচ হয়, দুর্নীতি হয় এগুলো আমরা বন্ধ করব। এই দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, এখন থেকে আইনি কাঠামোতে যত মালামাল আনা-নেয়া হয়, সব পণ্যই আমরা শতভাগ মালামাল স্ক্যান করে পারাপার করব। এরপরও ম্যানুয়ালি ১০ শতাংশ মালামাল পরীক্ষা করে দেখার ব্যবস্থাও করা হবে।

বর্তমানে ফিনিশড গুডসের পরিবর্তে কাঁচামাল আমদানি এবং আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে মালামাল পরীক্ষা করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। জঙ্গি অর্থায়নের বদনামও ঘুচবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপের বরাত দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকা ও বড় বড় শহরে প্রায় ৯ লাখ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রথমে বড় বড় জায়গায় এটা (ট্যাক্স আদায়) বাস্তবায়ন করা হবে। ভ্যাট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা আয়করের বিষয়টি জনগণের কাছে নিয়ে যাব। তবে জোর করব না। জনগণ যখন ভ্যাট দেবে তখন কর দেয়াতেও অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে সব আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য যথাযথভাবে স্ক্যানিং করা হবে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে যারা ওভার অ্যান্ড আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের জরিমানার পাশাপাশি মামলা করা হবে। মামলার রায় অনুযায়ী তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় অর্থমন্ত্রীর কাছে ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালসহ সংগঠনের নেতারা বাজেট নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর জন্য কর আহরণ প্রতিষ্ঠান রাজস্ব বোর্ডের সংস্কারের পরামর্শ দেন তারা।

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দ : এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

image

সূচকের উত্থানেও লেনদেন কমেছে শেয়ারবাজারে

image

ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা

image

সেবা খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে

image

সুমিতোমো গড়বে নারায়ণগঞ্জে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল

image

অর্থনীতি সমিতির ১২.৪১ লাখ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট

image

ফণীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ঋণ আদায় এক বছর স্থগিত

image

চার কোটি মানুষকে করের আওতায় আনা হবে : অর্থমন্ত্রী

image

বাজেটে অগ্রাধিকার পাচ্ছে শেখ হাসিনা নকশী পল্লী প্রকল্প

আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বাজেটে অগ্রাধিকার পাচ্ছে ‘শেখ হাসিনা নকশী পল্লী প্রকল্প’। প্রকল্প বাস্তবায়নে