করোনাকালীন অনলাইনে পড়ালেখা

image

বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কেউ জানেনা। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেশনজটের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে তারা। তবে এতদসত্ত্বেও বেশ কিছু মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে। এমন কয়েকটি মাধ্যম নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।

প্রথমত. মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি নির্দেশনায় সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্লাস সম্প্রচার শুরু করা হয়। প্রতিদিন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির দুটি করে ১০টি ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে। ২০ মিনিটের প্রতিটি ক্লাস শুরু হয় সকাল ১১টা থেকে। মাধ্যমিকের পর গত ৭ এপ্রিল প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্লাস সম্প্রচার শুরু হয়। প্রতিদিন প্রতিটি শ্রেণীর ২০ মিনিটের একটি করে ক্লাস প্রচার করা হচ্ছে।

টিভিতে প্রচারিত প্রতিটি ক্লাসের পর বাড়ির কাজ দেয়া হয়। আর প্রতিটি বিষয়ের আলাদা খাতায় সেই বাড়ির কাজ শেষ করতে হয়। করোনার তাণ্ডব শেষ হলে যখন স্কুল খোলা হবে তখন শিক্ষকদের সেই বাড়ির কাজের খাতা দেখাতে হবে। বাড়ির কাজের প্রাপ্ত নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

যতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ততদিনই টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীরা বাসায় বসেই যাতে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সংসদ টেলিভিশনে রেকর্ড করা শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয় সরকার। এই মাধ্যমটি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা কিছুটা হলেও তাদের পড়ালেখার ঘাটতি পূরণ করতে পারবে।

দ্বিতীয়. আরেকটি দারুণ মাধ্যম হতে পারে টেন মিনিট স্কুল। বাংলাদেশী শিক্ষা উদ্যোক্তা আয়মান সাদিক ২০১৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন পাঠশালা হিসেবে তার স্কুল শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ পরিচিত। এখানে ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় কন্টেট পাবে শিক্ষার্থীরা। রবি টেন মিনিট স্কুল অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রতিটি শ্রেণির প্রতিটি বিষয়ের অধ্যায়ভিত্তিক ক্লাসের ভিডিও পাওয়া যাবে এখানে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রায় ১৫ লাখ সদস্যের টেন মিনিট স্কুল লাইভ নামে একটা গ্রুপ আছে। প্রতিদিন এখানে এসএসসি এবং এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য ৮টা করে লাইভ ক্লাস হচ্ছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী, ব্যাংক জব কিংবা বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে চান, তাদের জন্যও এটি অন্যতম একটি মাধ্যম। দেশের এই দুর্দিনে শিক্ষা সহায়িকা হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য রবি টেন মিনিট স্কুল নি:সন্দেহে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।

করোনাকালীন সময়ে পড়ালেখার আরেকটি মাধ্যম অনলাইন শিক্ষাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এডুহাইভ। এটিও মূলত একটি অ্যাপ, যেটা গত বছরের ৩১ আগষ্ট যাত্রা শুরু করে। এডুহাইভ বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র অনলাইন প্লাটফর্ম যেখানে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, বিসিএস সহ অন্যান্য চাকুরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে স্বনামধন্য শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের কোর্স এবং অনলাইন ক্লাস একসাথে পায়। এখান থেকে পড়ালেখার একটি বড় সুবিধা হলো, প্রতিটি বিষয়ের উপর বিভিন্ন শিক্ষকের একাধিক লেকচার থাকে। যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর কোনো বিষয়ে না বুঝার সম্ভাবনা কম থাকে।

করোনাকালীন সময়ে এডুহাইভের সকল মডেল টেস্ট এবং অনলাইন লেসন ফ্রি করা হয়েছে। নবম-দ্বাদশ শ্রেণীর সকল শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে। গুগল প্লে স্টোর থেকে শিক্ষার্থীরা Eduhive লিখে সার্চ দিলেই অ্যাপটি পেয়ে যাবেন।

এই তিনটি মাধ্যম ছাড়াও পড়ালেখার আরও বেশকিছু মাধ্যম রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রয়োজনেই স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। ফেসবুকে লাইভ ক্লাস, যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া বর্তমানে যেকোনো তথ্যের জন্য গুগল, ইউটিউব বিশাল একটি মাধ্যম। নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে অধিক জ্ঞানার্জনের জন্য মাধ্যম দুটির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

পড়ালেখার জন্য আরো বেশকিছু ওয়েবসাইট রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো লেখাপড়া বিডি, ই শিক্ষণ, রেপ্টো, শিক্ষক ডটকম, বিবিসি জানালা, পারফেক্ট স্কুল, ম্যাথ অলিম্পিয়াড, এডুকার্নিভাল ডটকম ইত্যাদি। করোনা পরিস্থিতি যতদিন না স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া একজন বুদ্ধিমান শিক্ষার্থীর কাজ।