করোনায় সুনসান নীরবতা

image

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্বশেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এইতো কয়েকদিন আগেও ক্যাম্পাসে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত ছিল। বাসগুলো এসে থামলে মনে হতো মানুষের ঢল নেমেছে। ক্যাম্পাসের নাম শুনলে চোখের সামনে ভেসে উঠে গান, বাজনা, উৎসব, আড্ডা, কোলাহলের প্রতিচ্ছবি। সেই ক্যাম্পাসের বর্তমানের চিত্র এখন পুরোই আলাদা। এসবের লেশমাত্রও নেই!

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ক্লাস পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এক বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস চত্বর। দিনের পর দিন যে স্থানগুলোতে জনসমাগমের কারণে পা ফেলার জায়গা থাকতো না, সেসব স্থান এখন জনশূন্য। সেখানে নেই কোন কোলাহল, নেই কোন আড্ডা, নেই কোন ভিড়। দেখে বোঝার যো নেই এটাই সেই ইবি যা প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীর আড্ডার ফুলঝুরিতে মুখরিত হয়ে থাকতো।

হঠাৎ করে কেউ ক্যাম্পাসে আসলে সে যেন আকাশ থেকে পড়বে। চিরপরিচিত স্থানগুলো মনে হবে অপরিচিত। ক্যাম্পাসের মোড়ে মোড়ে অবস্থিত চায়ের দোকানে নেই কাপ চামুচের টুংটাং শব্দ। দোকান গুলোতে ঝুলছে তালা। শূন্য পড়ে আছে ক্যাফেটেরিয়া। যেই ক্যাফেটেরিয়ার টেবিল চাপড়িয়ে সুর উঠতো বিভিন্ন গানের সেই ক্যাফেটেরিয়া আজ হাহাকার করছে। ক্যাম্পাস আড্ডার জনপ্রিয় স্থান মফিজ লেক, টিএস সিসি, জিয়া মোড়, ডায়না চত্বর, মুক্তবাংলা চত্বর, শহীদ মিনার চত্বর। ব্যাস্ততম এই সব স্থান আজ জনশূন্য বিরানভূমি। যে মফিজলেক সব সময় প্রেমিক প্রেমিকা যুগলের পদচারণায় মুখরিত থাকতো সেই মফিজলেকে আজ সুনসান নীরবতা।

যে ডায়না চত্বরে জনসমাগমের অভাব ছিল না! সারাদিন জমজমাট হয়ে থাকতো আড্ডায় সেই ডায়না চত্বরে আজ পিন পতন নীরবতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ভূমি টিএস সিসি ভবন। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ সবগুলো সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিস এই ভবনে। যে টিএস সিসির সম্মেলন কক্ষের ব্যস্ততার কোন শেষ ছিল না সেই সম্মেলন কক্ষ আজ শান্ত। এর পাশ দিয়ে হেটে গেলে এখন আর শোনা যায়না গান কবিতা বা নাটকের রিহার্সেল ধ্বনি।

ছাত্ররাজনীতির কেন্দ্রস্থল দলীয় ট্রেন্ট এ নেই কোন নেতা কর্মীর উপস্থিতি। নেই কোন সভা সমাবেশ বা মিছিলের আওয়াজ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যাতায়াত করে ক্যাম্পাসের বাসগুলোতে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করেন এসব বাসে। ক্যাম্পাস চলাকালে হাজারো শিক্ষার্থীদের প্রশাসন ভবনের পাশের রাস্তায়, ডায়না চত্বরে অপেক্ষা করতে দেখা যেত। কে আগে বাসের সিট ধরবে তার প্রতিযোগিতা চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কিন্তু বর্তমানের চিত্র সম্পূর্নই আলাদা। বাসে সিট ধরার জন্য দৌড়ঝাঁপ করার কেউ নেই, নেই কারও ব্যস্ততা। বন্ধ হয়ে আছে আবাসিক হলগুলোও।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন বলেন, ক্যাম্পাস আমার দ্বিতীয় আশ্রয়স্থল। অনেক দিন হলো ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় এসেছি। খুব মনে পড়ছে প্রিয় ক্যাম্পাসের কথা। আশা করছি খুব শীঘ্রই এই সংক্রামক ভাইরাস পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে, আমি ফিরে যেতে পারবো প্রিয় ক্যাম্পাসে।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, প্রিয় ক্যাম্পাসকে খুব মিস করছি। আমি বাসায় থাকলেও আমার মন পরে আছে প্রিয় ক্যাম্পাসে। আমি বিশ্বাস করি খুব তাড়াতাড়ি এই মহামারি থেকে পৃথিবী মুক্তি পাবে এবং আমরা আবার আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে যাব। আবার আড্ডা দেব। সবার সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠবে ক্যাম্পাস।

রাবির শিক্ষকরা ৬০০ কর্মচারীকে সহায়তা দিচ্ছেন

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অসহায়৬০০ কর্মচারীকে ১২ লাখ টাকা সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি)শিক্ষকরা।

ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মকান্ড রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভূত

image

বাড়িভাড়া সংকট নিরসনে জবি শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি

image

শিক্ষা সংকট নিরসনে জবি ছাত্র ইউনিয়নের পাঁচ দফা দাবি

image

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “করোনাথন-১৯” হ্যাকাথন

image

এবার জবির সিকিউরিটি গার্ড করোনায় আক্রান্ত

image

করোনা আক্রান্ত কর্মচারীর মৃত্যুতে জবি পরিবারের শোক

image

৬০০ শিক্ষার্থীর তালিকা চেয়ে জবি শিক্ষক সমিতির চিঠি

image

করোনায় আক্রান্ত জবির কর্মচারী

image