ছিনতাইয়ের অভিযোগে জাবির ৫ ছাত্রলীগ কর্মী বহিষ্কার

image

ছবি : সার্চ ইঞ্জিন থেকে সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর স্বজনকে (জামাতা) ‘মারধর ও ছিনতাইয়ের’ অভিযোগে ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আসম ফিরোজ-উল-হাসান।

সাময়িক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের কর্মীরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সঞ্জয় ঘোষ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মোহাম্মদ আল-রাজি, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের রায়হান পাটোয়ারী, দর্শন বিভাগের মোকাররম শিবলু ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শাহ মুশতাক সৈকত। তাদের মধ্যে সঞ্জয় ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের ও বাকিরা ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ৩১ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ছাত্রলীগের ওই পাঁচ কর্মীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এছাড়া ছিনতাই ও মারধরের বিষয়টি তাদের পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনা অধিকতর তদন্তের জন্য ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহিষ্কার হওয়া সঞ্জয় ঘোষ, রায়হান পাটোয়ারী ও আল রাজী শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারী। এছাড়া মোকাররম শিবলু বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের ফুফাতো ভাই ও তার অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী। এছাড়া সৈকত সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লার অনুসারী। ছিনতাই ছাড়াও পূর্ব থেকেই এদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্তদের একজন, রায়হান পাটোয়ারী পূর্বের একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট গত ডিসেম্বর মাসে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে এবং ক্যাম্পাসে দেখামাত্র পুলিশে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল। এ আদেশ থাকা স্বত্তেও এতদিন ধরে শহীদ রফিক-জব্বার হলে অবস্থান করে আসছিল। শনিবার আটক হলেও তাকে পুলিশে হস্তান্তর করেনি প্রক্টর অফিস। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, যখন আটক করেছে তখনই যদি তারা তাকে পুলিশে দিয়ে দিত তাহলে হত। পরে আমরা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছি। পুলিশ আলাদা করে একজনকে নিতে রাজি হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ভোরে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ি থেকে বিশমাইলে রাস্তায় করে ঢাকা যাচ্ছিলেন মনির হোসেন। এমন সময় অভিযুক্তরা তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে ইজিবাইক যোগে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে নিয়ে যান। এসময় সঙ্গে থাকা নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং মুঠোফোনে পরিবার থেকে ১ লাখ টাকা দাবি করে। দিতে অস্বীকৃতি জানালে মনিরকে চেইন দিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মারধর করে তারা। পরে পরিবারের সদস্যরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় লোকজন তিনজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তার হতে তুলে দেন। মনির হোসেন ঘটনার বিচার চেয়ে ওইদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।