জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় : ১৬তম বর্ষে পদার্পণ

image

আজ (২০ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। নানা সংগ্রাম ও চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাস করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। আজ ২০ অক্টোবর ১৬তম বর্ষে পদার্পণ করছে।

রাজধানী ঢাকার ১৬২ বছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা একসময়ের ছোট্ট পাঠশালাটি আজ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। পাঠশালা থেকে কলেজ, কলেজ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে ১১ একরের এই ছোট ক্যাম্পাস।

১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে এর প্রতিষ্ঠা। ১৮৭২ সালে জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৯০৮ সালে এটাকে কলেজে পরিণত করা হয়। সেই থেকে সীমিত ক্যাম্পাস, আবাসন সমস্যা, পরিবহন সমস্যা, অপ্রতুল গবেষণাসহ নানা সংকট নিয়েও সফলতার হাতছানি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৬তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। আজ (২০ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।

পাঠশালা থেকে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়া নবীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কালের বিবর্তনে সময়ের দাবি মিটিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে অতিক্রম করছে সফলতার ১৫টি বছর। ১১ একরের ছোট্ট এই ক্যাম্পাসে রয়েছে ২০ হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্নবাস। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সুস্থ ছাত্র রাজনীতির শিক্ষাঙ্গন এই বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে অত্যাধুনিক করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ১৬ তলাবিশিষ্ট বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। যা আজ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে উদ্বোধন হবে।

এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের জন্য নতুন করে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ল্যাব। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য তৈরি হচ্ছে আধুনিক মেডিকেল সেন্টার। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অত্যাধুনিক উন্নত ও বিশ্বমানের করার লক্ষ্যে কেরাণীগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেছে।

এ বছরের ১১ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তনে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী (১৮ হাজার ২৮৪ জন) অংশগ্রহণ করেন।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদে ৩৬টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে ৬৫৭ জন শিক্ষক, প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, ৬৬৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাতটি শিক্ষাবর্ষে ২১৪ জন শিক্ষার্থী এমফিল ও ৮৭ জন পিএইচডি করছেন।