জাবি উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে পদযাত্রা ও সমাবেশ

image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে পদযাত্রা ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। পদযাত্রাটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ প্রদিক্ষণ করে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির শেষ হয়। সমাবেশে ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমানের সঞ্চালনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ইতিমধ্যেই আমাদের কাছে অবাঞ্ছিত। উপাচার্যকে রক্ষার জন্য নতুন করে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হচ্ছে। এই সংগঠন করার উদ্দেশ্য হলো তারা যে অন্যায় করছে সেগুলোকে ঢেকে দেওয়া। এরা সবাই উপাচার্যপন্থী এবং উপাচার্যপন্থী হওয়ার কারণেই তার দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারকে সমর্থন দেবে।ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের কার্যকরী সদস্য রাকিবুল রনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকে জানে উপাচার্যের স্বামী ও পুত্রের মধ্যস্থতায় উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লেনদেন হয়েছে। এ বিষয়টি ছাত্রলীগের একাধিক নেতা স্বীকারও করেছে। সালামির নামে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে। প্রকাশ্যে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে অপসারণ করতে হবে। এজন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানায়, এরকম দুর্নীতিবাজ উপাচার্যের হাত থেকে জাহাঙ্গীরনগরকে রক্ষা করুন।পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া আজ দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল, বৃহস্পতিবার সংহতি সমাবেশ এবং শনিবার মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন।

এদিকে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা- কর্মচারীরা। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটে। অধ্যাপক এ এ মামুনকে সমন্বয়ক ও অধ্যাপক আলমগীর কবিরকে মুখপাত্র করে ৩৫সদস্যের কমিটি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক এ এ মামুন বলেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে এর আগেও আন্দোলন হয়েছে। উপাচার্য আন্দোলনকারীদের দাবি মেনেও নিয়েছেন। কিন্তু আমরা যখন দেখলাম উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের এক দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন তখনই আমরা তার বিরুদ্ধে বলেছি।

৩৫সদস্যের কমিটির মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ, অধ্যাপক নঈম সুলতান, অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক রাশেদা আখতার, অধ্যাপক কৌশিক সাহা, অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, অধ্যাপক বশির আহমেদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করেন। এর মধ্যে বুধবার (আজ) বেলা এগারোটায় মৌন মিছিল ও সংহতি সমাবেশ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, ২২ অক্টোবর ‘চিহ্নিত’ দুর্নীতিবাজ ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান।