জাবি : বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ ৩দফা দাবি না মানা পর্যন্ত অবরোধ চলবে

image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানা পর্যন্ত লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

৪ সেপ্টেম্বর বুধবার ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন তারা। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভবন দু’টিতে প্রবেশের সবগুলো ফটক বন্ধ করে রাখে অবরোধকারীরা। এসময় তারা প্রতিবাদী গান ও নাটক পরিবেশন করেন।

অবরোধের ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবনে প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, উপ-উপাচার্য(শিক্ষা), উপ-উপাচার্য(প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকা- প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অবরোধকারীদের অন্য দুটি দাবি হলো- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ঘিরে নির্মিতব্য তিনটি ১০ তলা হলের বিকল্প স্থান নির্বাচন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন।

আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করা হচ্ছে তা অপরিকল্পিত ও অস্বচ্ছ। আর এ অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্বিন্যাস সহ দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে ভাগাভাগির যে অভিযোগ এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা মিথ্যা দাবি করছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কোনো উচ্চতর কমিটির মাধ্যমে এই অভিযোগের তদন্ত হতে হবে। সেটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কিংবা ইউজিসির তদন্ত হতে পারে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর মাস্টারপ্ল্যানের সমস্ত শর্ত পূরণ তা পুনঃবিন্যস্ত করতে হবে।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ, পরিকল্পিত, দুর্নীতিমুক্ত ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে উন্নয়ন চাই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এই পরিকল্পনাকে রিভাইস করার দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ জন সিনেটর। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করে। রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট থেকে নির্বাচিত সিনেটররা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, এই মেগা প্রকল্প সম্পর্কে সিন্ডিকেট ও সিনেট সভায় উপস্থাপন করা হয়নি এবং তাদের কোনো মতামত গ্রহণ করা হয়নি। তারা অভিযোগ করে বলেন, উপাচার্য তার ব্যক্তিগত সচিবসহ অনুগত ও অদক্ষ ব্যক্তিদেরকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে রেখেছেন। এছাড়া, উপাচার্য তার অনুগত ব্যক্তিদেরকে নিয়ে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আর্কিটেক্ট ফার্ম নির্বাচন করেন।

এদিকে উপাচার্য ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও শিক্ষক মঞ্চ। এর আগে একই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ জন নির্বাচিত সিনেট সদস্য। অন্যদিকে এই অভিযোগকে মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপাচার্যপন্থি ২৬ জন সিনেটর।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, আমার বাসায় একটা অফিস আছে ফলে আমার কাজ আমি করতে পেরেছি। প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্টার, প্রোভিসিরা এবং কোষাধ্যক্ষ ঢুকতে পারেনি। এটা ঠিক হয়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের লাগাতার অবরোধে প্রশাসনের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় হলে আমরা তাদের সঙ্গে বসবো। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাবো।