জাবি শিক্ষকের যৌন হয়রানির বিচার দাবিতে মানববন্ধন

image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগটির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, সাংস্কৃতিক জোট সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। তারা যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানোয়ার সিরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এসময় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষক হয়ে একজন এমন কাজ করেছে এতে আমরা লজ্জিত। শিক্ষকরা এধরনের কাজ করলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে। এ বিষয়টিকে সহজভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যৌন হয়রানির এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সানওয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় সভাপতি বরাবর যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা জানিয়েছেন, অভিযোগটি ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠানো হয়েছে।

ওই ছাত্রীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিভাগে গত এক বছর ধরে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে লড়ে আসছিলেন তিনি। কোনও বিচার না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ২৬টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নেওয়া হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড় দিয়েছে। পরে দুপুরে তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, হঠাৎ করে তার এ ধরনের আচরণে আমি বিস্মিত হই। পরবর্তীতে আমি বিভাগে গিয়ে তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল কিনা, তা জানতে চাই। তিনি নিশ্চিত করেন, আইডি হ্যাক হয়নি। তিনি নিজেই ওসব মেসেজ পাঠিয়েছেন।

এ বিষয়ে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের প্রধান নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আখতার বলেন, অভিযোগপত্রটি পেয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।