জাবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে পুলিশ সাংবাদিক শিক্ষকসহ আহত ৬০

image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ-সংবাদ

তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও মওলানা ভাসানী হলের ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থালে বঙ্গবন্ধু হলের দুই ছাত্রলীগ কর্মী অন্তত ১২ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। ৩ জুলাই বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় দুপুর দুইটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ অন্তত ৬০ জনের আহত হয়েছে। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩ জন শিক্ষার্থী ও একজন পুলিশ এনামে ভর্তি রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ২টার দিকে উঁচু বটতলার বেলালের দোকানে মিষ্টি খেতে যায় বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থী ও ৪৬তম ব্যাচের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে দ্বীপ বিশ্বাস ও বাংলা বিভাগের আলিফ হাসান দীপু। এ সময় মওলানা ভাসানী হলের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ কাপালীর সঙ্গে ধাক্কা লাগে দ্বীপের। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে দ্বীপ ও দীপুকে চড়-থাপ্পড় মারে সৌরভ। খবর পেয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা লাঠি, চাপাতি, রড, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বটতলায় মিলিত হলে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয় এবং সংঘর্ষ বাধে।

এতে উভয় হলের সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতারা নেতৃত্ব দেয়। সংঘর্ষ শুরু হলে প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। এ সময় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকও সেখানে উপস্থিত হয়। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন এবং একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আড়াই ঘণ্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ইট পাটকেল ছোঁড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুলাগুলিরও ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ চলাকালে বঙ্গবন্ধু হলের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান লিটন (দর্শন) ও শাওন (আইআইটি)সহ কয়েকজনকে অন্তত ১২-১৫ রাউন্ড গুলি ছুড়তে দেখা যায়। বিকেল ৪টার দিকে আশুলিয়া, সাভার মডেল থানা, ধামরাই ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা বটতলায় উপস্থিত হয়ে অন্তত ৬টি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে আশুলিয়া থানার ওসি মো. রেজাউল হক দীপু পায়ে আঘাত পান।

এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হন সহকারী প্রক্টর মহিবুর রউফ শৈবাল ও বঙ্গবন্ধু হলের ওয়ার্ডেন মেহেদী ইকবাল। সংঘর্ষের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করায় দৈনিক সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জোবায়ের কামালকে বঙ্গবন্ধু হলের ৪৪ ব্যাচের সিয়াম (নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ)সহ কয়েকজন মারধর করে। এছাড়া ঘটনার সংবাদ ও ছবি সংগ্রহকালে দৈনিক ভোরের কাগজের রিজু মোল্লা ও বার্তা২৪.কমের রুদ্র আজাদকে লাঞ্ছিত করে ভাসানী হলের সংঘর্ষে জড়ানো শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক লিখন চন্দ্র বালা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৬৫ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের আমরা হলে ফিরিয়ে দিয়েছি। যে কোন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে আমরা ফোর্স নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনকেও বলবো জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।