ডাকসু ভিপি নুরের ওপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বুলবুল-মামুন গ্রুপের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক

image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের (বুলবুল-মামুন গ্রুপ) নেতাকর্মীরা। এ হামলায় ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনসহ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ দাবি করেছে, এ ঘটনায় তাদের ৫ জন নেতা আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বেলা ১২টায় সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একযোগে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুর। সরেজমিন জানা যায়, ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল এনআরসি ও সিএএ-এর প্রতিবাদে আন্দোলনে পুলিশের হামলায় আহত সে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি ও এ আইন বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল চারটায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ডাকসু ভিপি নুরের নেতৃত্বে তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। সমাবেশের আগেই রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। ভিপি নুর সমাবেশে যোগ দিতে আসলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন দলবল নিয়ে ডাকসু ভিপি ও তার অনুসারীদের ওপর হামলা করে। হামলায় ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হয়ে আইন বিভাগের সালেহ উদ্দিন সিফাত নামে এক শিক্ষার্থী পড়ে যান। পরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলা পরবর্তী এক সমাবেশে নুরুল হক মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এজেন্ট বলে দাবি করেন। নুর বলেন, আমরা দেশের স্বার্থবিরোধী আর কোন সিদ্ধান্ত নিতে দিব না। বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ এই স্বৈরাচার সরকার। হামলায় আহত আখতার হোসেন বলেন, ভারতের আধিপত্য কায়েম হতে দিব না। সরকারের নীরব ভূমিকার জন্য দেশ আজ অন্যের হাতে। এদিকে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দাবি এ ঘটনায় তাদের পাঁচজন নেতা আহত হয়েছে। তারা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাহবুব হাসান নিয়ন, নিজামুল হাসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য ও ঢাবির জসিম উদদীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদ আল রিয়াদ। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ডাকসু ভিপি নুর দেশবিরোধী এবং রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলছে। এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। এটি নিয়ে কথা বলার অধিকার তার নেই। এটি নিয়ে কর্মসূচি দেয়া ডাকসুর নীতি-আদর্শ পরিপন্থী। নুরকে ডাকসুর গঠনতন্ত্রের নীতি-আদর্শের ভেতরে থেকে কার্যক্রম চালাতে হবে। এর বাইরে গিয়ে সে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। তিনি বলেন, তারা যে কর্মসূচি দিয়েছে তা অবশ্যই দেশবিরোধী। আমরা তাকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত করে এ হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে চাই। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ যেখানেই পাবে সেখানেই তাকে প্রতিহত করবে। জানতে চাইলে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, রাজু ভাস্কর্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাউকে বরাদ্দ দেয় না। যারা সেখানে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন মনে করে না হামলা হলে দায়-দায়িত্ব তাদের। আজকের এই হামলা অবৈধ কাজের খেসারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রক্টর বলেন, দুই পক্ষকেই সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকে অমান্য করে কেউ যদি দায়িত্বহীন আচরণ করে তার ফলাফল এমনই হবে।