ঢাবি উপাচার্য-ডিনের পদত্যাগ দাবি

image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সান্ধ্য কোর্সে চিরকুটের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) পৃথক কর্মসূচি থেকে তারা এ দাবি জানান।

দুপুর সোয়া বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে শিববাড়ী মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশ থেকে চিরকুটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাদের ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করা হয়। এছাড়া, ভর্তিকৃতদের ডাকসুর সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি এবং বহিষ্কারেরও দাবি জানানো হয়।

এদিকে, ঢাবি উপাচার্য ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে দুপুর একটায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তাদের অন্য দুটি দাবি হলো- অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া ৩৪ ছাত্রকে অছাত্র ঘোষণা করা এবং অবৈধ ছাত্রত্ব নিয়ে যারা ডাকসুতে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের পদ শূন্য ঘোষণা করে সেসব পদে উপনির্বাচন দেয়া। একই দাবিতে সংগঠনটি সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে উপাচার্য ও ডিনের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।

অন্যদিকে, ডাকসু নির্বাচনের সময় পরীক্ষা ছাড়াই ছাত্রলীগের ৩৪ নেতাকে ভর্তির সুযোগ দেয়ায় চারটি দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সঞ্জীব চত্বরে একটি সংবাদ সম্মেলন করে তারা এই দাবি জানায়। তাদের দাবিগুলো হলো- পরীক্ষা ছাড়া চিরকুটের মাধ্যমে অবৈধভাবে ছাত্রলীগ নেতাদের ভর্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম এবং রোকেয়া হলের নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত হল প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার পদত্যাগ, পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি হওয়া আট ডাকসু নেতার পদত্যাগ করা। এছাড়া রোকেয়া হলের নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত হল সংসদের ভিপি ইশরাত জাহান তন্বী ও জিএস সায়মা আক্তার প্রমির পদত্যাগ করা এবং পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি হওয়া আট ডাকসু নেতা ও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত মোট দশ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডিনের মন্তব্যে দ্বিমত অন্যদের

কোন ধরনের লিখিত পরীক্ষা ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোয় ঢাবি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রয়েছে তাই নিয়ম মেনেই ভর্র্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। তিনি জানান, ঢাবি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করা শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যাকালীন কোর্সগুলোয় ভর্তি হতে হলে কেবল মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এমনকি এই ভর্তির জন্য কোন সার্কুলারেরও প্রয়োজন হয় না।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটায় ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হাবিবুল্লাহ বাহার সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ভর্তির এই নিয়মের কথা জানিয়েছেন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। তবে, তিনি সেই নিয়মের লিখিত কোন অনুলিপি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেননি। তিনি বলেছেন, অনুষদের ‘চেয়ারম্যানস কমিটিতে’ এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কবে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটিও তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুদের একাধিক সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান এবং অধ্যাপক নিশ্চিত করে বলেছেন, তাদের অনুষদে এমন কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলেও ভর্তির সার্কুলার অনুযায়ী পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়েই তাকে সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোয় ভর্তি হতে হয়। আর এ বিষয়ে নীতিমালা পরিবর্তনের এখতিয়ার ‘চেয়ারম্যানস কমিটির’ নেই। ভর্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কোন নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হলে, তা অবশ্যই অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হতে হবে।

ভর্তি নিয়ে শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, বিভাগের পক্ষ থেকে পত্র-পত্রিকায় ভর্তির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। বিভিন্ন সেক্টরের অনেকেই আবেদন করেন। আবেদনের পর ভর্তির লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আবার একটা মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষে ভর্তি নেয়া হয়। সব ফ্যাকাল্টির জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।