ঢাবিতে কর্মশালায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সামাজিক সচেতনতাই সাইবার অপরাধ কমাতে পারে

image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মামলা কিংবা ধড়পাকড় নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিই সাইবার অপরাধের ঘটনা কমাতে পারে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কিছু লেখা এবং ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই করে নেওয়ার প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি। ৩১ জুলাই বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ মিলনায়তনে ৫ দিনব্যাপী এক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি ছাত্রী হল, ইডেন এবং হোম ইকোনোমিক্স কলেজের প্রায় ২ হাজার নারী শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের এই উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি। ‘সাইবার সিকিউরিটি এওয়ারনেস ফর উইমেন ইমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

ডিইউআইটিএস সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদের সঞ্চালনায় এবং দেবরাজ দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো: শাহ আলম, বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য-প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাইমেন আস সাকিব, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিনিধি ফয়সাল আলম, কথাসাহিত্যিক আবদুল্লাহ আল ইমরান এবং ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ এবং গুজব প্রতিরোধে পুলিশ বাহিনীতে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার পুলিশ সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে এসকল অপরাধ দমনে আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়বে। আয়োজকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশের স্কুল কলেজগুলোতেও এই ধরণের কর্মশালার আয়োজনে সহযোগিতা করা হবে।

ম্যোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রথম শ্রেনীর নাগরিক। তাদের দায়িত্ব বেশি। গুজব এবং সাইবার অপরাধ বন্ধে তাদেরও ভূমিকা রয়েছে। সত্য তথ্য প্রচারের পাশাপাশি, মিথ্যা তথ্যগুলো চিহ্নিত করে মানুষকে তা জানাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো কিছু মুছে যায় না। রেকর্ড থেকে যায়।

অনুষ্ঠান শেষে কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম হয়েছেন কবি সুফিয়া কামাল হলের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাপসী বিশ্বাস। দ্বিতীয় হয়েছেন একই হলের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইয়েদা তাজমুন খানম এবং তৃতীয় হয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ক্লথিং এন্ড টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস।