নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য-শিক্ষকরা রাজনৈতিক মাঠে আছেন

image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন ২০০৫ এ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সরাসরি রাজনীতিতে জড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বয়ং অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং প্রেসিডেয়াম সদস্য। সম্প্রতি তিনি যুবলীগের সভাপতি হওয়ারও আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ কমিটির সদস্যও। আওয়ামীলীগের গত কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি কুমিল্লা অঞ্চল থেকে কাউন্সিলর হিসাবে অংশ নেন। তিনি কুমিল্লা জেলা উত্তর আওয়ামীলীগের সদস্য।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ এর আট নাম্বার ধারায় লেখা আছে আচার্য, উপাচার্য, ডীন, বিভাগীয় প্রধান, রেজিষ্টার, প্রক্টর, বিভাগীয় পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব থাকবেন। এ আইনের ৪৪ নাম্বার ধারার চার নাম্বার উপধারায় উল্লেখ আছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জবির উপাচার্য মীজানুর রহমান যুবলীগের সভাপতি মন্ডলীর এক নাম্বার সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.শামসুল কবির রাহাত লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি লক্ষীপুর -৪ (রামগতি-কমলনগর) সংসদীয় আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরমও উত্তোলন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড.প্রিয়ব্রত পাল আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ কমিটির সদস্য, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হালিম ও আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সদস্য। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিরোধী কাজ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের রাজনীতিতে জড়ানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে এটার কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। আমাদের কাছে এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি। যদি অভিযোগ আসে সেক্ষেএে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সাথে কথা বলতে বলেন।

এ বিষয়ে ইউজিসি’র (বিশ্ববিদ্যালয মঞ্জুরী কমিশন) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, শিক্ষকদের রাজনীতিতে জড়ানোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি সর্ম্পকে আমি অবগত নয়। যদি এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।