নুর আশঙ্কামুক্ত

image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। শারিরীকভাবে তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, নুর কথা বলছেন, হাঁটছেন। তিনি আশঙ্কামুক্ত। শীঘ্রই নুরসহ অন্যদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে, ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত এপিএম সুহেল এখনও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে নুরের অভিযোগটি মামলা আকারে সংযুক্তির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাবি প্রক্টরের পদত্যাগ, সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করে জনগণের সামনে প্রকাশসহ বেশকয়েকটি দাবি জানিয়েছেন নুরের অনুসারীরা।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে মাথায় সফল অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর আহত এপিএম সুহেলকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সেখানে তাকে আরও দুইদিন রাখা হবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, সুহেল এখনও আইসিইউতে আছে। ডাক্তার বলেছেন, তাকে আরও অন্তত দুইদিন আইসিইউতে রাখতে হবে। পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। ২২ ডিসেম্বর রোববার ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হকের কক্ষে হামলা চালানোর পর সুহেলকে ডাকসু ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতা-কর্মীরা। তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক জানান, সুহেলের মাথায় ফ্র্যাকচার, কোমরে ব্যথা এবং চোখ ফোলা আছে। ফলে তাকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।

এদিকে, বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন নুরসহ হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার সবশেষ তথ্য জানাতে মেডিকেলের ইমার্জেন্সি গেটে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন বলেন, ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজনকে আটক করা হয়েছে। যাদের আটক করা হয়েছে, তারা সবাই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মী। অথচ হামলার ঘটনায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তাদের এখনও গ্রেফতার করা হয় নি। আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। বুধবার সকালে থানা থেকে বলা হয়েছে, আমাদের অভিযোগটি মামলা আকারে সংযুক্তির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ সময় তিনি কয়েকটি দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো- দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে, অনতিবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করে জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে, হামলায় আহতদের চিকিৎসার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারকে নিতে হবে এবং ভিপি নুরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছাত্ররা আহত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের জীবনের নিরাপত্তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারকে দিতে হবে।