পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সামরিক নয়, রাজনৈতিক

image

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি সংখ্যালঘুদের নীরবে ‘গণহত্যা’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কয়েকটি পাহাড়ি ছাত্র সংগঠন। এমন অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবিতে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ব্যানারে ২৭ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাষ্কর্যের পাদদেশে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এসময় তারা পাহাড়ে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা কোন সামরিক সমস্যা নয়, এটা রাজনৈতিক সমস্যা। সামরিকভাবে তা সমাধানের চেষ্টা করা হলে তা সরকারের জন্য ভুল হবে।

বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পাহাড়ে গত কয়েকদিন ধরে যেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তার বিচার, নিরব গণহত্যা বন্ধ, যারা পাহাড়িদের হত্যা করেছে তাদের বিচার করা এবং সেখানে অবৈধভাবে যেসব সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকার পাহাড়িদের বিভিন্ন উন্নয়নের নামে একপ্রকার বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। সেখানে সরকার সেনাবাহিনী দিয়ে জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। সংবিধানের সংখ্যালঘুদের অধিকার দেয়া হলেও সেখানে সংবিধান লঙ্ঘন করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এ সময় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুনয়ন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা একটি রাজনৈতিক সমস্যা। এটা কোন সামরিক সমস্যা নয়। সেখানে সেনাবাহিনী রাজনৈতিক লোকদের দিয়ে খুন গুম চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার যদি খুন গুমের মাধ্যমে পাহাড়ের সমস্যার সমাধান করতে চায় তাহলে আমরা বলব সরকার নিতান্তই ভুল করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমস্যাকে যারা পাশ কাটিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে নিরীহ নিরপরাধ লোকদের খুন করছে সে জবাব তাদের একদিন দিতে হবে।

পাহাড়ী সংগঠন ‘হিল উইমেন ফেডারেশনের’ সভাপতি নীরুপা চাকমা বলেন, ইউডিএফের এক কর্মীকে সেনাবাহিনী কর্তৃক বন্দুকযুদ্ধের নাম দিয়ে ধরে নিয়ে মারধর এবং হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকা- অনেক আগে থেকেই করছে তারা। সেখানে যারা নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তাদের মুখ বন্ধ করার জন্য মারধর করে হত্যা করা হয়।