বিকৃত রাজনীতির কারণেই স্বাধীনতা যুদ্ধে গণহত্যা চালানো হয় : সম্মেলনে বক্তারা

image

গণহত্যা রাজনীতির অংশ। বিকৃত রাজনীতি পরিকল্পিতভাবে গণহত্যার পটভূমি তৈরি করে। পরবর্তীতে আবার সেই গণহত্যাকে অস্বীকার করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঠিক বিকৃত রাজনীতির কারণেই গণহত্যা চালানো হয়। ২৪ মার্চ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘জেনোসাইড অ্যান্ড ম্যাস ভায়োলেন্স’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ’ তৃতীয়বারের মতো দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।

সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে ‘গণহত্যার রাজনীতি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন। কৃতজ্ঞতা জানান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার পরেও ক্ষমতাসীন শক্তিগুলো এই গণহত্যা নিয়ে রাজনীতি করেছে। আর এই রাজনীতিতে শামিল হয় স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো।

‘গণহত্যার রাজনীতি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, বাংলাদেশের একাত্তরের গণহত্যা ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চললেও এটাকে স্বীকৃতি দেয়া নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এই অস্বীকৃতির পিছনে কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেখানে ইউরোপের দেশগুলো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব ও মুসলমান অধ্যুষিত দেশগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে ছিল। এই শক্তিগুলো বাংলাদেশের গণহত্যাকে অস্বীকার করে। তিনি বলেন, আমাদের উচিত গণহত্যার স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করা। সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানাতে হবে। একইসঙ্গে সমাজ থেকে মৌলবাদ ও উগ্রবাদ দূর করতে সাহায্য করবে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কর্তৃক বর্বরোচিত গণহত্যার সাক্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে রিকশাওয়ালারাও এর শিকার হয়েছিল। তিনি বলেন, এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস ও গণহত্যা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ সম্পাদিত ‘জেনোসাইড অ্যান্ড মাস ভায়োলেন্স : পলিটিক্স অফ সিঙ্গুলারিটি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। দুইদিন-ব্যাপী সম্মেলনে ৬টি সেশনে দেশি-বিদেশি গবেষকরা গণহত্যা বিষয়ক ১৬টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এর মধ্যে প্রথম দিনে ৩টি সেশনে গণহত্যা বিষয়ক ৮টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে শেষ দিনে আজ ৩টি সেশনে ৮টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।