বুয়েটের হলগুলোকে অবৈধ ও বহিরাগতমুক্ত করার অভিযান

image

১২ অক্টোবর শনিবার থেকে হলগুলোতে আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত অবৈধ ও বহিরাগতমুক্ত করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে। ইতোমধ্যেই আমরা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ অবৈধ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতকে হল থেকে বের করে দিতে পেরেছি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল, হল থেকে অবৈধ শিক্ষার্থী ও বহিরাগত বের করে দিতে হবে। সে দাবির প্রেক্ষিতে কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে রোববার (১৩ অক্টোবর) মুঠোফোনে সংবাদকে এসব কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, রোববার রাতের মধ্যেই সব হল থেকে অবৈধ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করছি। যাদের ঢাকায় থাকার জায়গা নেই, তাদের বের করতে একটু সময় লাগছে। তবে, সবাইকে হল থেকে চলে যেতে হবে।

হল থেকে অবৈধ শিক্ষার্থী ও বহিরাগত বের করে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের ড. এমএ রশীদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস সংবাদকে বলেন, শিক্ষার্থীরা যে দাবি জানিয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। আমরা তাদের সহযোগী হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার হলে অবৈধ ও বহিরাগতদের বের করে দেয়ার কাজ চলমান রয়েছে। আজ রোববার রাতের মধ্যেই আমরা হলকে বহিরাগতমুক্ত করার চেষ্টা করছি।

এর আগে রোববার দুপুরে বহিরাগতদের হলে থাকার বিষয়ে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের হলগুলোতে বিগত সময়ে বহিরাগতদের অবস্থান করতে দেখা গেলেও এবার তা পারেনি। দু’দিন ধরে হলগুলোতে যে অপারেশন চলছে, আশা করি বহিরাগত কেউ হলে অবস্থান করতে পারবে না।

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, যাদের বিরুদ্ধে ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ আছে, হলগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিযানের আগে তাদের অধিকাংশই হল ছেড়ে চলে গেছে। তাদের রুমগুলোতে শুধুমাত্র তালা লাগানো হয়েছে, ভেতরে তাদের জিনিসপত্র রয়ে গেছে। তারা যদি পরবর্তীতে কখনও হলে ফিরে তখন প্রশাসন তাদের বিষয়ে কতটুকু কঠোর হবে, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। কারণ, এর আগে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পরও ব্যবস্থা নেয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুয়েটের এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরে প্রশাসন হলগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে, বিষয়টি প্রশংসার যোগ্য। তবে, দুই-একদিন অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে ফেললে চলবে না। যাদের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে তারা যেন আর হলে ফিরতে না পারে। এ বিষয়ে প্রশাসন যেন সজাগ থাকে।