মুজিববর্ষে শিক্ষার্থীদের একবেলা খাওয়া জবি প্রশাসনের অবমাননাকর মন্তব্য: জবি ছাত্রফ্রন্ট

image

মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হবে মর্মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবমাননাকর সিদ্ধান্ত ” বলে প্রত্যাখান সমাজতান্ত্রিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার । বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দপ্তর সম্পাদক মুসাদ্দিকুর আকাশ র্কতৃক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় । সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক তানজিম সাকিব বলেন , মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানের কর্মসূচীতে ‘দরিদ্র শিক্ষার্থীদের একবেলা খাওয়ানো হবে’ মর্মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ইস্যুকৃত বিজ্ঞপ্তিকে অবমাননাকর বলে প্রত্যাখান করেছেন। এ ধরনের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গোটা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মর্যাদাহানি করা হয়েছে এবং এ ধরনের চরম ধৃষ্টতামূলক আচরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে হেয় করেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কারো একবেলা খাবারের সঙ্কটের কথা ভাবার আগে প্রশাসনের আরো গভীর সমস্যার কথা ভেবে দেখা উচিত ছিল। প্রতি সেমিস্টার ফি, অবৈধ জরিমানা, নামে বেনামে ফি আরোপের চাপ কিভাবে একজন শিক্ষার্থী মেটায় সেটা কি ভেবেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন? বরং সর্বোপরি শিক্ষা ব্যায় কমানোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল। প্রতি মাসে ঢাকা শহরে আবাসন, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক প্রয়োজনে ৭-৮ হাজার টাকা ব্যয় হওয়া নিয়ে ভাবা উচিত ছিল প্রশাসনের।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মনে করে, যদি সত্যিকার অর্থেই ছাত্রদের আর্থিক কষ্টে প্রশাসন এতোই বিচলিত হয়ে থাকে তাহলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি, অবৈধ জরিমানা, শিক্ষা ব্যায় কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারতো এবং এটাই কোন উদযাপনের সত্যিকারের সার্থকতা হতো।

সমজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নেতা বিবৃতিতে, প্রশাসনের এ ধরনের অপমানজনক কর্মসূচীর তীব্র নিন্দা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মর্যাদা রক্ষায় আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে আহবান জানান। উল্লেখ্য, ১১ মার্চ মঙ্গলবার ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় এক বেলা বিনামূল্যে খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতি বিভাগ থেকে তিন জন শিক্ষার্থীকে এই সুবিধার আওয়তাভুক্ত করা হবে। এই উপলক্ষে প্রত্যেক বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে আগামী ১২ মার্চের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থীর নাম পাঠানোর জন্য বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের নির্দেশনা দেয়া হয়।