যৌন নিপীড়ককে জুতাপেটা করে পুলিশে দিল ঢাবি ছাত্রী

image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে যৌন নিপীড়ক এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে। ৬ জুলাই শনিবার সকালে তাকে ঢাবি ক্যাম্পাসে দেখে ভুক্তভোগী কয়েকজন ছাত্রী প্রক্টরিয়াল টিমের সাহায্যে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটকের সময় ভুক্তভোগী এক ছাত্রীকে নিজের জুতা খুলে ওয়াহেদকে পেটাতে দেখা গেছে। এদিকে, ওয়াহেদকে আটকের পর তার ফেসবুক আইডি ডিজেবল করেছে পুলিশ। সে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আরবি বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী আবদুল ওয়াহেদ। মাস্টারদা সূর্যসেন হলে এটাস্ট হলেও সে হলে থাকে না। ওয়াহেদের কাজই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা। কারো মেসেঞ্জারে নক দেয়া, তারপর সে মেসেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া; ফেসবুকের পোস্ট ও কমেন্টে মেয়েদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা; লাইভে এসে মেয়েদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া ছিল ওয়াহেদের নিত্যনৈমত্তিক কাজ। ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। শনিবার সে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন ছাত্রী ওয়াহেদকে ক্যাম্পাসে দেখে প্রক্টরিয়াল টিমকে কল দেয়। এরপর তারা এসে ওয়াহেদকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটকের সময় ভুক্তভোগী এক ছাত্রীকে নিজের জুতা খুলে ওয়াহেদকে পেটাতে দেখা গেছে। এদিকে, ওয়াহেদকে আটকের পর তার ফেসবুক আইডি ডিজেবল করেছে পুলিশ। ওয়াহেদ এমন ঘটনা এবারই প্রথম ঘটায়নি। অসংখ্য মেয়েকে সে প্রায়শঃ বিরক্ত করতো। গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় তিনি ওয়াহেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সে মামলায় তিনি জেলও খেটেছিলেন। এছাড়াও গতবছর তার মায়ের অভিযোগে তাকে জেলে যেতে হয়। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের নামকরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীই ওয়াহেদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের খুলনা বিভাগের এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, “সে (ওয়াহেদ) মূলত আমাকে কল দিয়ে ডিস্টার্ব করতো। প্রতিদিন ভোর ৫টায় সে আমাকে কল দিতো। মাঝেমধ্যে লাইভে এসে আমাকে নিয়ে প্রচুর বাজে কথা বলতো। এমনকি আমাকে খুলনা থেকে তুলে নিয়ে যাবার হুমকিও দেয়। তার ফোন নাম্বার আমি বেশ কয়েকবার ব্লক দিয়েছি। এছাড়া ফেসবুক থেকেও তাকে ব্লক দিয়েছিলাম। কিন্তু সে অনেকগুলো আইডি ব্যবহার করে, তার মোবাইল নাম্বারও অনেক। এগুলো দিয়ে সে বিরক্ত করতো।” মাহমুদ নামে ইতিহাস বিভাগের এক ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রটি এর আগে মেয়েদের সঙ্গে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলে তা ফেসবুকে আপলোড করেছে। কাজকর্মে তাকে কিছুটা মানসিক অসুস্থ বলেও মনে হয়, তবে তা স্বীকৃত না। ইতোপূর্বে সে আত্মহত্যা করবে জানিয়েও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল।

ভুক্তভোগি আইন বিভাগের ২য় বর্ষের এক ছাত্রী জানান, রাতের বেলা ওয়াহেদ বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে তাকেসহ অনেক মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো। মূলত তার প্রেক্ষিতেই আজ তাকে পুলিশে দেয়া হয়েছে। এর আগে অর্ধশতাধিক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এসেছে তার বিরুদ্ধে।

ঢাবির আরেক ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় আবদুল ওয়াহেদের একটা পোস্টে আমার এক বান্ধবী কমেন্ট করে। তিনি আমার ফ্রেন্ডকে বলেন, তুই জারজ সন্তান নাকি বৈধ সন্তান। আমি এর রিপ্লাই দিয়ে বলি, কাউকে বৈধ বা অবৈধ সন্তান বলার অধিকার তো আপনাকে কেউ দেয়নি। শুরুটা এইভাবেই। এরপর সে কমেন্ট বেশ্যা বলে গালি দেয়। কমেন্টের স্ক্রিনশট নিয়ে আবার পোস্ট আর গালি, লাইভে এসে গালি। ম্যাসেন্জার এ বারবার ফোন, থ্রেট দেয় রাতভর। লাইভে এসে জুতা দিয়ে পিটাবে, জীবন নরক বানাবে ইত্যাদিও বলতো।

নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাহেব আলী বলেন, তাকে এখন ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেহেতু সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাই প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানীর মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে, ওয়াহেদের আটকের খবর পাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে। তামান্না ফেরদৌস নামে একজন তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লেখেন- “গুড মর্নিং বাংলাদেশ। শয়তানের শাস্তি হবেই ইনশাআল্লাহ। এই যে ভন্ড ওয়াহেদ যার কাছে প্রত্যেক মেয়েই খারাপ.. সে অসুস্থ হলে তার ট্রিটমেন্ট করা হোক আর শয়তান হলে শাস্তি হোক। আমরা আমাদের অধিকার জানি এবং প্রতিবাদ করে শয়তানগুলোকে শাস্তি দেই।”