সাতটি শপথ উল্লেখিত ফরম স্বাক্ষর করে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে প্রবেশ

image

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) হলে উঠতে ইচ্ছুক নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন ধরনের র‌্যাগিংয়ে না জড়ানো, সহপাঠীদের বিরুদ্ধে অপবাদ না দেয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন ক্লাস বর্জন না করাসহ সাতটি শপথ নিয়েছে বুয়েট প্রশাসন। ওই সাতটি শপথের ফরমে স্বাক্ষর করে হলে উঠতে হয়েছে নবীন শিক্ষার্থীদের। ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে বুয়েটের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে। এর আগে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর হলে উঠার আগে ওই সাত শপথের ফরমে স্বাক্ষর করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

শপথগুলো হলো- বুয়েটে র‌্যাগিং নিষিদ্ধ এবং এ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা; র‌্যাগিংয়ের আওতায় আসে এমন কোন আচরণ বা কাজ করা থেকে বিরত থাকা, কোন ধরনের র‌্যাগিংয়ে নিজে না জড়িয়ে এর প্রশ্রয় ও প্রচার থেকে দূরে থাকা, কাউকে শারীরিক বা মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতি না করা; যদি কোন সময় কারও বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে বুয়েট এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য থাকবে; অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাতিল বা বহিষ্কৃত হয়নি, এটার নিশ্চয়তা প্রদান করা; বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীসহ যে কাউকে কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে কখনও অপমান না করা; কোন ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন ক্লাস বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম বা শ্রেণীকক্ষকে তালাবদ্ধ করে রাখা যাবে না এবং উপরের বিষয়গুলো বুঝে সম্মত হওয়া। কোন শিক্ষার্থী এই শপথ ভঙ্গ করে কোন অপরাধে জড়ালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ শাস্তি দিবে।

জানা গেছে, এবারই প্রথম হলে উঠার আগে এই ধরনের শপথের ফরমে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে বুয়েটের নবীন শিক্ষার্থীদের। আগে এই ধরনের কোন ফরম পূরণ করতে হতো না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েট ছাত্রকল্যাণ অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা আগে কোন সময় এ রকম শপথ ফরম পূরণ করাইনি যেহেতু বুয়েটে গতবছর এক মারাত্মক অবস্থার (আবারার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড) সম্মুখীন হয়েছে। তাই আমরা চাই এরকম মর্মান্তিক ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না হোক। তাই আমরা নবীন শিক্ষার্থীদের এরকম শপথ ফরম পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।