উত্তর-দক্ষিণে মশকবিরোধী অভিযান

image

মশকবিরোধী অভিযানে নামেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন (বামে) ও ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম-সংবাদ

ভবন মালিকরা সংশোধন না হলে আইনি অভিযান : আতিকুল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বাসা-বাড়িতে গিয়ে অ্যাডিস মশার লার্ভা পেলে তাকে সতর্ক করব এবং ‘সাবধান! এ বাড়িতে অ্যাডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে’ লেখা একটি স্টিকার লাগিয়ে দেব। আমাদের বিশ্বাস এরপর তারা নিজেদের শুধরে নেবেন। যদি শুধরে না নেন, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ২০ আগস্ট মঙ্গলবার অ্যাডিস মশা নির্মূলে ডিএনসিসি’র চিরুনি অভিযান উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯নম্বর ওয়ার্ড (গুলশান-বনানী এলাকা) থেকে চিরুনি অভিযানের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়। এ ওয়ার্ডকে ১০টি ব্লকে ভাগ করে প্রতিটি ব্লককে ১০টি সাব-ব্লকে ভাগ করা হয়। এভাবে আগামী ১০ দিনে এ ওয়ার্ডটিতে অ্যাডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান সম্পূর্ণ হবে। এ ওয়ার্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ডিএনসিসির অন্যান্য ওয়ার্ডেও এ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযান উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, নগরবাসীকেই নিজ উদ্যোগে বাসাবাড়ির ভিতরে এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

গুলশানের শহীদ ডা. ফজলে রাব্বী পার্ক থেকে শুরু হওয়া চিরুনি অভিযান উদ্বোধনের সময় ডিএনসিসি মেয়রের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ডিএনসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মঞ্জুর হোসেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে গুলশান ১নম্বর সড়কের বাণিজ্যিক ভবনে ছাদে পরিত্যক্ত একটি কমোডের ফ্লাশে অ্যাডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ সময় উপস্থিত ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার ভবনের মালিককে ১ লাখ টাকা অনাদায়ে বিনাশ্রম ৩০ দিনের কারাদ- প্রদান করেন। এরপর বাড়ির সামনে ‘সাবধান ! এ বাড়িতে অ্যাডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে’ লেখাসম্বলিত একটি স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হয়।

ডেঙ্গু আক্রান্ত কমছে : সাঈদ খোকন

নতুন ওষুধে মশা নিধনে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তার মতে, উৎসস্থল ধ্বংসে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ায় অ্যাডিস মশার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলেও প্রত্যাশা মেয়রের।

মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। ডিএসসিসি ও নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ যৌথভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচিতে বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল, সাধারণ সম্পাদক মতিন আবদুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, সেপ্টেম্বরের ১ম সপ্তাহকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ডিএসসিসির এই উদ্যোগের সঙ্গে নগরবাসী সম্পৃক্ত হয়েছে। মশার উৎসস্থল ধ্বংসে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানোর ফলে অ্যাডিস মশার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে এ অবস্থা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি সব সংস্থা ইতোমধ্যেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করে চলেছে। আশা করা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র জানান, ইতোমধ্যে ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে ৫৮ হাজার ৭৪৮ বাড়িতে অ্যাডিস মশার লার্ভা নিধনে অভিযান চালানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সহস্রাধিক বাড়িতে অ্যাডিসের লার্ভা পাওয়ায় তা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের এ বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক ও কলামিস্ট লেখক আবুল মকসুদ বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি একটি প্রতীকি কর্মসূচি। আমি মনে করি এই কর্মসূচির মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা কাজে সম্পৃক্ত হবেন।

ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ঢাকা মেডিকেলে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকে। এ অবস্থায় এখানে নানা আবর্জনার সৃষ্টি হয়। সবাই মিলে কাজ করলে মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।