এবার মিরপুরে বহুতল ভবনে আগুন

image

রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর এবার মিরপুরে ১৪ নম্বর সেকশনে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ১৫ এপ্রিল রোববার বিকেল ৫টার দিকে খান ম্যানশন নামক ১০ তলা ভবনটির ৬ তলায় আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় সোয়া ২ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, দুইজন ফায়ারম্যান আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম রুহুল আমিন। মিরপুর ফায়ার স্টেশনে কর্মরত এই দুই ফায়ারম্যানকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স ও মেইনটেইনেন্স) মেজর শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ১০ তলা বিশিষ্ট ওই ভবনের ৬ ও ৭ তলার এক পাশে আগুন লাগে। তবে, যেখান থেকে (৬তলা) আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সেখানে প্লাস্টিক, সিনথেটিক, গাম, বুট জুতা তৈরির ক্যামিকেল ছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি আরো বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য বহুতল ভবনটিতে কোনো অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো না। এমনকি ভবনটি নির্মাণের সময় যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। যার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। তবে, আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, সেখানে গার্মেন্টস কারখানার মালামাল রাখা হয়। পহেলা বৈশাখে ছুটি থাকায় সেখানে লোকজন ছিল না। ফলে তেমন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে, উৎসুক জনতার কারণে উদ্ধার অভিযান বেশ বিপত্তি পোহাতে হয়েছে। তবে, উপরের তলায় আগুন ছড়াতে পারেনি। কারণ ওপরের তলা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছিলো ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা লিমা খানম রোববার জানান, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ভবনের মালিক যৌথভাবে নজরুল ইসলাম খান ও নূর উদ্দিন খান নামের দুইজন। ৬তলা ফ্লোরটি পাপ্পু নামের একজন জ্যাকেট, কম্বল ও মশারীর গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বাবু নামের স্থানীয় একজন জানান, ভবনটি ৯তলা। এর উপরে আরো অর্ধেক স্থাপনা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত ৫ বছর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলগালা করা হয়। এরপর ভবন মালিক গার্মেন্ট না করে গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেন।

রোববার দুপুরে ভবনটি পরিদর্শনে আসেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অতিরিক্ত পরিচালক আনোয়ার হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রোববার ছুটির দিন হওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ভবনটির অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা দুর্বল। তিনি বলেন, ভবনের ৬ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত উপস্থিত হয়ে কাজ শুরু করায় ওপরের তলায় ছড়াতে পারেনি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তসাপেক্ষে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে অগ্নিকান্ডের পর বিজিএমইএ এর প্রতিনিধি হিসেবে ইয়াং ফোর এভার টেক্সটাইল লি. এর মালিক রাজীব চৌধূরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকান্ডের পর বেশ কিছু টেলিভিশন ও অনলাইন পোর্টালে গার্মেন্টে আগুন লেগেছে বলে সংবাদ এসেছে। তা দেখে বিদেশের বায়াররা আমাদের ফোন দিচ্ছেন। এ কারণেই বিজিএমইএ’র প্রতিনিধি হিসেবে আমি এসেছি। আসার পর দেখেছি যে, এখানে কোনো গার্মেন্ট নেই। একটি গোডাউনে আগুন লেগেছিল।

মগবাজারে গ্যারেজে থাকা গাড়িতে আগুন-রাজধানীর মগবাজার কাজী অফিস গলির ১১৬ নং বাড়ির বেজমেন্টে একটি গাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার বিকেলে ৩টার দিকে এ আগুন লাগে। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আগুন নেভানো হয়। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনের খবর পেয়ে ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। আগুনের কারণ জানা যায়নি।