কনকর্ড শপিং মলে হামলার মাধ্যমে রাজউকের নকশা বাতিল করার অভিযোগ ল্যাবএইডের বিরুদ্ধে

image

রাজউকের নকশা বাতিল করতে ল্যাবএইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিং মলে হামলা ও ভাংচুর করেছে। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডি ৪ নং রোডের ২ কনকর্ড আর্কেডিয়া শপিং মল ওনার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন এসোসিয়েশনের সভাপতি সানাউল হক নীরু। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি একেএম সাইদুর রহমান, সেক্রেটারী মোতাহার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারী লোকমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু, কোষাধাক্ষ ওয়াহিদুর রহমান প্রমুখ।

সানাউল হক নীরু বলেন, রাজউকের নকশা অনুযায়ী ২০০২ সালের ১ নভেম্বর শপিং মলটি উদ্বোধন করা হয়। ওই নকশার উপর ভিত্তি করেই এখানে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানসহ বিভিন্ন পজিশন ক্রয় করেন। কিন্তু ২০০৫ সালে হঠাৎ করে জানা যায়, কনকর্ড কর্তৃপক্ষ মার্কেটের তৃতীয় তলার ৩০১-০৫১ চতুর্থ তলার ৪০১ থেকে ৪৫১ এবং পঞ্চম তলার ৭০০০ বর্গফুট ল্যাবএইড হাসপাতালের কাছে বিক্রি করে দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ওই দোকানগুলো ভেঙ্গে হাসপাতাল নির্মাণ করে। হাসপাতালের মধ্যে কোন ক্রেতা শপিং করতে না আশায় চরম ক্ষতির শিকার হন ব্যবসায়ীরা। পরে আদালত দোকান ভেঙ্গে হাসপাতাল নির্মানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু তারপরও ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে মার্কেটটি ভেঙ্গে রাজউকের নকশা পরিবর্তন করে ব্যবসায়ীদের পথে বসানোর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের কাছ থেকে মার্কেট কর্তৃপক্ষ পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকার মতো বকেয়া পাবে। তাও পরিশোধ করছে না।

এসব বিষয় নিয়ে এবং রাজউকের নকশা পরিবর্তনের বিষয়ে মার্কেট কর্তৃপক্ষ রাজি না হওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি সকালে ল্যাবএইড হাসপাতালের এমডি ডা. এমএ শামীম বহিরাগত লোকজন লাঠি-সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের শপিং মলে হামলা চালায়। শপিং মলের পশ্চিম দিকের মেইন গেটের গ্লাস ডোরসহ গেটের উপর গ্লাস ভাংচুর, ব্যাংকের এটিএম বুথ, লিফট ও নিচ তলার ১০১ নম্বর দোকানে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় তাদের হামলায় শপিং মলের সিকিউরিটি গার্ডসহ ১০/১২ জন গুরুতর আহত হন। দ্বিতীয় দফায় বিকেলে হামলা চালানোর সময় পুলিশ একজন চিকিৎসকসহ ৭ জনকে আটক করে। পরবর্তীতে আমরা শপিং মলের শাটার বন্ধ করে ভেতরে মিটিং করা অবস্থায় আমাকেসহ পাঁচজনকেও আটক করে। পরবর্তীতে আমরা জামিনে বেরিয়ে আসি। এ ঘটনায় আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করে শপিং মলের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।