ডিশ ব্যবসা দখল ও হয়রানির অভিযোগ আমির বক্সের

image

বাংলাদেশ টেলিভিশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিশ ব্যবসা দখল-হয়রানির অভিযোগ আমির বক্স মন্ডল নামে এক ডিশ ব্যবসায়ী। ২০ অক্টোবর রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আমির বক্স মন্ডল লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০০৬ সাল থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ডিস (ক্য্বাল) ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। রাজধানীল ওয়ারি, মিতিঝিল, টিকাটুলি, গোপীবাগ এলাকায় ফুয়াদ ফয়সালের সঙ্গে যৌথভাবে জিট্এিস ক্যাবল নামে গ্রাহকদের কাছে নিরবিচ্ছন্ন সংযোগ প্রদান করে আসছি। আমার ব্যবসা নিয়ে কোনো গ্রাহকের কোনো অভিযোগ না থাকলেও লুক মিডিয়ার মালি ফারজানা জুঁই তার ব্যবসা দখলের অভিযোগ এনেছে যা মিথ্যা ও বানোয়াট।

তিনি বলেন, রাজধানীল ওয়ারি, মিতিঝিল, টিকাটুলি, গোপীবাগ এলাকায় সলুক মিডিয়া নেটওয়ার্ক দীর্ঘ দিন ধরে ডিশ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। কিন্তু তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০১৫ সালে তার লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। এর পর থেকে গ্রাহকরা ভালো সেবার আশায় আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। আমরা ওই এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। কিন্তু হঠাৎ লুক মিডিয়া নেটওয়ার্কের মালিক ফারজানা জুঁইয়ের অভিযোগের কারন খুঁজে পাইনি। তিনি সম্পন্ন উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা নিয়োজিত আছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, লুক মিডিয়া নেটওয়ার্কের মালিক ফারজানা জুঁইয়ের স্বামী মো. হারুন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছিলো।তার বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ করলেই তাকে হত্যার হুমকি দিতো হারুন। তার বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজির মামলা থাকায় তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে আছেন। এখন আমাদের ব্যবসা দখলে জন্য হারুন ও তার স্ত্রী জুঁই নানাভাবে চেষ্টা করছে। এমনকি তাঁর স্ত্রী আমাকে গ্রাহকদের দিয়ে নারি নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন। তাছাড়া জুঁই এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে এলাকায় শালিস বৈঠক হয়েছে একাধিকবার। আমরা তাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রশাসনসহ সব মহলের সহযোগিতা চাই। তবে সম্প্রতি সময়ে অসত্য তথ্য সরবরাহ এবং প্রকৃত তথ্য গোপন করার অপরাধে সরকার সেই লাইসেন্স স্থগিত করে। লাইসেন্স স্থগিতের ফলে হারুনের লুক মিডিয়ার ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে স্থানীয় গ্রাহকবৃন্দ লুক মিডিয়া বর্জন করে আমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে থাকে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক কার্যক্রম পরিচালনা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে সরকারী বিধান বা আইন রয়েছে। ক্যাবল নেটওর্য়াক আইন ২০০৬ সাল এর ৩৮ নং আইনের ১৭ নং অনুচ্ছেদের ৫নং ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, প্রত্যেক এম.এস.ও/ ক্যাবল অপারেটর/ ফিল্ড অপারেটরগণ গ্রাহকগণের পছন্দ অনুযায়ী সংযোগ প্রদান করিবেন। সেবাদানকারী এম.এস.ও/ ক্যাবল অপারেটর/ ফিল্ড অপারেটর নিজে সীমানা নির্ধারণ করিয়া বা জোরপূর্বক এলাকার গ্রাহকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংযোগ নিতে বাধ্য করিতে পারিবে না।” এই আইন অনুযায়ী গ্রাহক আমার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সেবা গ্রহণ করলে সেটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। আমরা সন্ত্রাসী হারুন এবং তার স্ত্রী জুঁইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি। শুধু আমি নয় স্থানীয় বহুলোকজন তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট। এই অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে আপনাদের সহায়তা কামনা করছি।

এ বিষয়ে ফারজানা জুইয়ের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন আমির বক্স এবং ফুয়াদ ফয়সালের সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার স্বামীর নামে কোনো চাঁবাজি বা হত্যঅ মামলা দেশের কোনো থানাতে নেই, কেউ দেখাতেও পারবে না। আমি ফুয়াদের ও তাদের সহযোগিদের অত্যাচারে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছি।