ব্যবসায়ী শেহজাদ হত্যায় একাধিক ব্যাক্তির সংশ্লিষ্ট খুজেঁ পায়নি পুলিশ

image

রাজধানীর বনানীতে ব্যবসায়ীকে হত্যায় একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিস্টতা খুজে পায়নি পুলিশ। মদ্যপ অবস্থায় বন্ধুর সঙ্গে হাতাহাতি করতে গিয়ে মারা যাওয়া ব্যবসায়ী শেহজাদ ‘হত্যা’ মামলায় গুলশান থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার শেহজাদের বন্ধু বাবুকে ২ দিন ঢাকা মহানগর অপরাধ তথ্য ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি উত্তর বিভাগ) গ্রেফতার দেখালেও অন্য কারো সংশ্লিস্টতার বিষয়ে তথ্য পায়নি।

সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী শেহজাদ হত্যার ক্লু উদঘাটন করে বনানী থানা পুলিশ একমাত্র আসামী বাবু হাওলাদারকে গত ১৪ মার্চ গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বনানী থানা পুলিশ জানতে পারে বাবুসহ কয়েকজনের সঙ্গে ব্যবসায়ী শেহজাদ নিয়মিত মদ পান করতো বনানীর হোটেল সুইট ড্রিমে। গত ১১ মার্চ প্রতিদিনের মতো বাবু হাওলাদারসহ কয়েকজনের সঙ্গে মদ পান করতে হোটেলে যায় আমদানী ও রম্পানীকারক ব্যবসায়ী শেহজাদ। পরে তারা মদ্যপ অবস্থায় থেকে হোটেলের জিডে পার্টিতে( নাচ গান) অংশ নেয়। সেখানে প্রায় ৮ হাজার টাকা বিল আসে। ওই বিল পরিশোধ নিয়ে কয়েকদফা বন্ধু বাবু হাওলাদারের সঙ্গে হাতাহাতি করে ব্যবসায়ী শেহজাদ। হোটেলের বারে, নিচতলায় এবং হোটেলের বাইরে কয়েক দফা হাতাহাতি করতে গিয়ে রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে যায় ব্যবসায়ী শেহজাদ। এরপর ওই অবস্থায় বাবু হাওলাদার শেহজাদকে ফেলে চলে যায়। বাবুকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য পায় বনানী থানা পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী সেহজাদের লাশ উদ্ধারের পর তার বড় ভাই কামাল হোসেন সেহজাদকে হত্যার অভিযোগে বনানী থানায় মামলা করে ১২ মার্চ। এরপর বনানী থানা পুলিশ ক্লু উদঘাটনে হোটেল সুইট ড্রিম থেকে কিছু ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। সিসি ক্যামেরায় সেহজাদকে এক ব্যক্তির সঙ্গে হাতাহাতি করতে দেখা যায়। সেই সূত্র ধরে ওই ব্যক্তিকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করার পর পুলিশ জানতে পারে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি বাবু হাওলাদার। সে পেশায় সাব রেজিস্টার অফিসের উমাদার। সেখানে বাবু মাস্টাররোলে চাকুরী করতো। কিন্তু বাবু ব্যবসায়ী সেহজাদের ঘনিষ্ট বন্ধু। বাবুসহ আরো ৪ থেকে ৫ জনের সঙ্গে নিয়মিত মদ পান করতে সুইট ড্রিমে আসতে সেহজাদ। সেহজাদের হার্টের সমস্যা ছিলো। হার্টের সমস্যা থাকলেও সে নিয়মিত মদ পান করতো। ঘটনার দিন ১১ মার্চও মদপান করে একত্রে। এরপর তর্কাতর্কিকে জড়িয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। এরপর তার মৃত্যু হয়। ময়না তদন্তের পর চিকিৎসকরা জানান, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। এছাড়া তার পাকস্থলিতে এলকোহলের অস্তিত্ব পাওয়ার কথ। পরে এ মামলা ডিবি উত্তর বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি নতুন করে কারো সংশ্লিস্টতা পায়নি।

ডিবির এডিসি গোলাম সাকলাইন দাবী করেন ১৫ মার্চ রোববার বাবু হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের তথ্য অনুযায়ী বাবু হাওলাদার গ্রেফতার হয়েছেন ১৪ মার্চ। তাহলে বাবুকে ২ বার গ্রেফতার দেখানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাবুকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করলে ডিবির দাবী তারা গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে রশি টানাটানি চলছে।

ডিবির ডিসি মশিউর রহমান বলেণ, আটক বাবু হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জণ্য ৭ দিনের রিমান্ড হেফাজতে আনার আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। আপাতত বাবু ছাড়া এ ঘটনায় অন্য কারো জড়িত থাকার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।