সন্তানকে বিষপানে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

image

এক মাস ১২ দিনের কন্যা শিশুকে (জান্নাত) বিষপান করিয়ে হত্যার পর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে সোনিয়া আক্তার(৩০) নামের এক নারী। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৭টায় রাজধানীর স্বামীবাগে এ ঘটনা ঘটে। কেন নিজ সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ওই নারী তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোনিয়া আক্তার খুলনার রুপসা উপজেলার আইজগতি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। থাকতেন স্বামীবাগ মিনি স্বপ্ন সুপার সপ এর ভবনের ৩য় তলায়। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কোন ঝামেলার কারণে ১ মাস ১২ দিনের সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার জন্যও বিষ পান করেছেন। কিন্তু সোনিয়া বেচে যান।

সোনিয়ার স্বামী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন। তার স্ত্রী গৃহিণী। একমাত্র মেয়ে জান্নাতকে নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী স্বামীবাগে থাকেন। সোমবার রাতে তিনি ডিউটিতে ছিলেন। সোনিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য। এজন্য ২/৩ দিন ধরে ছোট ভাই সাদ্দামকে ফোন করে স্ত্রীসহ তাদের বাসায় আসতে বলে সোনিয়া। কিন্তু ভাই সাদ্দাম জানায়, সে এখন আসতে পারবে না। কিছুদিন পর আসবে। এতে ভাইয়ের সাথে রাগ-অভিমান করে সোনিয়া। সে কারনেই কাটনাশক জাতীয় কিছু বাচ্চাকে খাওয়ায় ও নিজে পান করে। পরে সে নিজেই ফোন দিয়ে আমাকে বাসায় আসতে বলে। বাসায় গিয়ে দেখি, দুইজনই ফ্লোরে পড়ে রয়েছে। তাৎক্ষণাৎ তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যাই। সেখানে সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসক মেয়ে জান্নাতকে মৃত ঘোষণা করেন। সোনিয়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

গেন্ডারিয়া থানার ওসি মো. সাজু মিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিজারের মাধ্যমে এক মাস ১২ দিন আগে কন্যা সন্তান জন্ম দেন সোনিয়া আক্তার। সিজারের সময় ভয় পান তিনি। এতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর কয়েক দিন পর তার জরায়ুতে অপারেশন করা হয়। এতে আরো ভয় পান এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন সোনিয়া। তাকে দেখাশোনা করার লোক ছিল। তারপরও সে তার ভাইকে স্ত্রী নিয়ে তার বাসায় আসতে বলেন। কিন্তু তার ভাই বিয়ে করেছেন সাত দিন হয়েছে। তাই সে পরে আসবে বলে জানায়। মানসিক রোগে এবং ভাইয়ের সাথে রাগ করে সে ঘটনাটি ঘটাতে পারেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, ৭২ ঘন্টা না যাওয়া পর্যন্ত তার সাথে কথা বলা যাবে না। তাই সোনিয়া সুস্থ হলে পুরো বিষয়টি জানা যাবে।