সার্জেন্ট ইমরান আমার বন্ধু স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেলের মালিক আবির অনুতপ্ত

image

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সার্জেন্ট ইমরান আমার বন্ধু’ লেখা একটি মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট ভাইরাল হয়। যা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ট্রলের ঝড় বয়ে যায়। বিষয়টি দৃষ্টি এড়ায়নি পুলিশের উর্ধ্বতন মহলেরও। অনলাইনে নম্বরপ্লেটটি ভাইরাল হওয়ার পরেই মোটরসাইকেল ও তার মালিককে খোঁজ করতে থাকে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। অবশেষে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে মালিকসহ সন্ধ্যান পাওয়া গেছে মোটরসাইকেলটির। পুলিশের হাতে ধরা পরে এ ধরনের কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন মোটরসাইকেলের মালিক আবির। সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক থাকায় পুলিশও তাকে ছেড়ে দিয়েছে। সার্জেন্ট বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই এ কাজ করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন আবির।

মোটরসাইকেলটি আটককারী কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত সার্জেন্ট আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, আবির নামে ওই ব্যক্তি চাকরি করেন। বুধবার রাতে আবিরকে আটকে তার মোটরসাইকেলের পেছনে লেমিনেটিং করা কাগজটি দেখতে পাই। তার কাছে এর কারণ জানতে চাওয়া হলে উত্তরে বলেন, ইমরান তার একজন খুব ভালো বন্ধু। তিনি (ইমরান) তাকে মোটরসাইকেল কেনা থেকে শুরু করে তা চালানো পর্যন্ত শিখিয়েছেন। তাই বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই তিনি নম্বরপ্লেটটি লাগিয়েছেন।

সার্জেন্ট জুয়েল বলেন, মোটরযানে নম্বরপ্লেটের স্থানে নম্বর ছাড়া কোনো অংকন, নাম লেখা, খোদাই করা, ঘষামাজা করা, অ্যাড দেয়া আইনে নিষিদ্ধ। মোটরযান আইনের ২০১৮ এর ৯২ (২) ধারায় এ অপরাধের জন্য ১ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে আবিরের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স, ইন্স্যুরেন্সসহ সব কাগজপত্র ঠিক ছিল। নম্বরপ্লেটে ওই লেখার জন্য তিনি তার ভুল স্বীকার করেছেন এবং অনুতপ্ত হয়েছেন। তাই তাকে কোনো মামলা দেয়া হয়নি।

নম্বরপ্লেটে ‘সার্জেন্ট ইমরান আমার বন্ধু’ লেখা মোটরসাইকেলটির ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এটাকে মোটরসাইকেল চালকের দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল বললেও কেউ কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক পরিচয় দেখানোর মতোই ‘স্টান্ট’ বলে উল্লেখ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালক ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হওয়ায় বিষয়টির এখানেই শেষ ঘটবে বলে আশা ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের।