অনুমোদনহীন এলাকার ৪শ ঘরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ

image

রাজধানী’র খিলগাঁও এলাকায় ৪শ ঘরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। সংশ্লিস্ট এলাকার তিতাসের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিটি ঘর থেকে সংযোগের বিনিময়ে ৩০ হাজার করে টাকা করেও নিয়েছেন । এছাড়া প্রতিমাসে ওইসব ঘর থেকে মাসিক বিলও নিতেন তারা। এর ফলে অবৈধ গ্যাসের এ সংযোগের কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদের বিনস্ট হয়েছে দীর্ঘদিন। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে( হটলাইন ১০৬) অভিযোগ অভিযান চালিয়ে এমন চ্যাঞ্চল্যকর তথ্য পায় দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের কর্মকর্তারা।

দুদক সূত্র জানায়, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে ( হটলাইন-১০৬) আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ হতে সোমবার এ অভিযান পরিচালিত হয়। সরেজমিন অভিযানে দুদক টিম অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। টিম জানতে পারে, ওই এলাকায় তিতাস গ্যাসের অনুমোদন না থাকলেও প্রায় ৪০০ পরিবারের প্রত্যেকের নিকট থেকে ৩০ হাজার হারে টাকা গ্রহণ করে তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মচারী এ অবৈধ সংযোগসমূহ প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের এ বিপুল অপচয়ের বিষয়ে অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে টিম।

দুদক টিম জানায়, সরকারীভাবে আবাসিক ফ্লাট বাড়িতে এবং বানিজ্যিকভাবেও গ্যাস সংগযো কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কিন্তু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এভাবে অনেক বাসাবাড়ি, ফ্লাট এবং বস্তিতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। খিলগাও ছাড়াও রাজধানীর কোন কোন এলাকায় অবৈধভাবে এভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করবে।

এদিকে পাবনার বেড়া পৌর ভূমি অফিসে অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক। জমি খারিজ করার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ১১ শ ৭০ টাকা হলেও এক ভুক্তভোগীর নিকট হতে ২৫ শতাংশ জমি খারিজ করার জন্য ৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে, দুদক হটলাইনে এরূপ অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়। অভিযোগ পেয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনা’র সহকারী পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। সরেজমিন অভিযানকালে দুদক টিম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও উক্ত অফিসের অফিস সহকারী’র নিকট হতে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ আদায়কৃত ৬০ হাজার২শ৭৬ টাকার অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করে, যার ব্যাখ্যা তাঁরা দিতে পারেননি। টিম এ অনিয়মের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্তের জন্য কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুবর্ণচর, নোয়াখালীতে ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক প্রধান সহকারী এবং সাবেক মেডিসিন ক্যারিয়ার পর¯পর যোগসাজশে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, সুবর্ণচর শাখা, নোয়াখালীতে সরকারী টাকা স্থানান্তর করেছেন, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে পেয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী হতে সোমবার এ অভিযান পরিচালিত হয়। সরেজমিন অভিযানে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক প্রধান সহকারী আবু তাহেরকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান যে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুবর্ণচরের বিভিন্ন বিলের টাকা তিনি সাবেক মেডিসিন ক্যারিয়ার মোঃ রুহুল আমিনের হিসাবে জমা রাখেন এবং পরবর্তীতে উক্ত টাকা হতে উত্তোলন করে বিল ভাউচার সমন্বয় করেন। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজস্ব হিসাবে টাকা কেন টাকা জমা করা হয়নি তাঁরা এর সদুত্তর দিতে পারেননি। দুদক টিম সকল বিল ভাউচারের তথ্য সংগ্রহ করবে।