অপহৃতের লাশ বস্তা বন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়ার স্বীকারউক্তি

image

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে অপহৃত কিশোর কুতুব উদ্দিন পাপ্পু (১৫) মৃত্যুর পর তার লাশ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকার নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাজু নামে এক আসামিকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। তবে পাপ্পুর লাশ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করছে তারা। ইতোমধ্যে গ্রেফতার রাজু হত্যার দ্বায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।

গত ৩ অক্টোবর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালি এলাকা থেকে কুতুব উদ্দিন পাপ্পুকে অপহরণ করা হয়। এ নিয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে গত রোববার রাতে বরগুনা থেকে অপহ্নত পাপ্পু উদ্ধারের তথ্য সঠিক নয় বলে ডিবি জানিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ডেমরা এলাকা থেকে অপহৃত এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। যা ভুলে পাপ্পু বলে তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে। তা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম মুঠোফোনে বলেন, অপহৃত পাপ্পুর লাশ উদ্ধারের পর মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। আর পাপ্পুর লাশ ফেলে দেয়ার পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। আর গ্রেফতারকৃত রাজুর সঙ্গে কারা জড়িত তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোদাসসের হোসেন সংবাদকে জানান, কুতুব উদ্দিন পাপ্পু নামে এক কিশোরকে অপহরণ ও মুক্তিপণ হিসেবে ২ কোটি টাকা দাবির ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হলে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় তারা। তদন্ত করে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রাজু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রিমান্ডে নিয়ে রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে রাজু জানিয়েছে, পাপ্পু বয়সে তার ছোট হলেও তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যতা রয়েছে। ৪ ভাই এর মধ্যে পাপ্পু সবার ছোট। বয়সে কিশোর হলেও পাপ্পু রাজুর সঙ্গে নানারকম আড্ডায় জড়িত থাকে। পাপ্পু কোন কাজ করে না এবং বেশিদূর লেখাপড়াও করেনি। ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করার পর পাপ্পু পড়াশুনা বাদ দেয়। বেকার সময় কাটানোর জন্য তার দোকানে গিয়ে প্রতিদিন আড্ডা দেয়। এ সুবাধে পাপ্পুকে সে মাদকে আসক্ত করে তোলে। ঘটনার দিন পাপ্পুকে সে ডেকে নিয়ে মদ পান করায়। এ সময় অতিমাত্রায় মদ পান করানোর কারণে পাপ্পু মাতাল হয়ে পড়ে। একটি অসামাজিক কাজ নিয়ে পাপ্পুর সঙ্গে সে বাজি ধরে। এক পর্যায়ে ওই বাজিতে হারজিত নিয়ে তর্কাতর্কির কারণে পাপ্পুকে সে গলাটিপে ধরায় পাপ্পু মারা যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে রাজু জানিয়েছে, পাপ্পু মারা যাওয়ায় সে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পাপ্পুকে একটি বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে বস্তার মুখ বন্ধ করে দেয়। হত্যা মামলায় ফাসবে এমন ভয়ে সে পাপ্পুর লাশ গুম করার পরিকল্পনা নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সে একটি গাড়ি ঠিক করে। সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী নেয়। তাদের বলে তার কাছে চোরাই ইলেক্ট্রিকাল মালামাল রয়েছে এ নিয়ে ধরা পড়লে অসুবিধা হবে এগুলো দূরে কোথায় নিয়ে যেতে হবে অথবা বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিতে হবে। এ কথা বলে সে পাপ্পুর বস্তাবন্দী লাশ গাড়িতে তুলে লৌহজং এলাকায় নিয়ে যায়। পরে সেখানে গিয়ে সহযোগীদের বলে এগুলো বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিলে অসুবিধা হবে। পরে সে পাপ্পুর বস্তাবন্দী লাশ নদীতে ফেলে দেয়। রাজুর দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ডুবুরি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। সেখানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাপ্পুর লাশ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, পাপ্পুকে মেরে লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার পর রাজুই পাপ্পুর পরিবারের কাছে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের লোকজন টাকা দিতে রাজিও হয়েছিল। পরে রাজুই তাদের ফোন করে বলেন, টাকা রেডি রাখেন আমার যখন লাগবে তখন কোথায় কিভাবে পৌঁছে দিতে হবে তা বলবো। কিন্তু এরপর রাজু ধরা পড়ে যাওয়ার কারণে আর টাকা নিতে পারেনি। তার চেষ্টা ছিল টাকা নিতে পারলে সে আত্মগোপনে চলে যাবে।

তিনি আরও জানান, রাজুর দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। তারা গ্রেফতার হলে এবং পাপ্পুর লাশ পাওয়া গেলে আসল রহস্য উদ্ঘাটন হবে।

আমানত হিসেবে রাখা ইয়াবা সেবন করে ফেলায় বন্ধুকে হত্যা

image

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে কোন আসামির কি কাণ্ড ছিলো!

image

হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে ক্যাসিনো খালেদ

image

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : আবরার পানি চেয়েছে দেওয়া হয়নি, হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু নেয়নি বড় ভাইয়ারা

image

মা ইলিশের লালসায় নদীতে লুঙ্গি পড়া জেলের সাজে আটক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নি প্রশাসন

image

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে খালেদ-শামীমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

image

টং এর দোকানদার টু ঢং এর কাউন্সিলর ভায়া কোন এক সাবেক প্রতিমন্ত্রী

image

স্পর্শ ছাড়াই ঘুষের টাকা স্ত্রীর কাছে পৌঁছে যেতো

image

তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

image