আমানত হিসেবে রাখা ইয়াবা সেবন করে ফেলায় বন্ধুকে হত্যা

image

বন্ধুর কাছে জমা রাখা ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের মধ্যে ১৫টি খেয়ে ফেলে ৫টি ট্যাবলেট ফেরত দেয়ায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাসিন নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। গত ১ মে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে লেকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে বন্ধুরা মিলে তাকে হত্যা করে। হত্যার লাশ পূর্বাচলের লেকে ফেলে দিয়ে বন্ধুরা চলে যায়। পরে অজ্ঞাত হিসেবে গত ৩ মে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়।

ক্লুলেস এ মামলাটি তদন্ত করতে পুলিশ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছে। লাশের পরিচয় জানার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি দেয়ার পর পরিচয় মিলেছে। কিশোরের নাম তাসিন (১৮)। মা লাশ শনাক্ত করে। মায়ের দেয়া তথ্যমতে, বন্ধু ইমরানসহ ৪ আসামি গ্রেফতার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। পলাতক আরও ২ জনকে ধরতে চলছে পুলিশের অভিযান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (রূপগঞ্জ) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গেল বছর থার্টিফার্স্টের রাতে নেশা হিসেবে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করতে ইমরান নামে এক যুবক ২০টি ট্যাবলেট কিনে রূপগঞ্জের বাসায় যায়। বাড়ি থেকে তাড়া করলে সে ইয়াবা টাবলেটগুলো দোকান কর্মচারী তাসিনের কাছে রেখে পালিয়ে যায়। ২ ঘণ্টা পর ইমরান আবার তাসিনের কাছে ইয়াবা ট্যাবলেটের জন্য গেলে তাসিন ৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট ফেরত দেয়। আর ১৫টি খেয়ে ফেলেছে বলে জানায়। এতে ইমরান ও তাসিনের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও তর্ক বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে ইমরান হুমকি দেয় মেরে ফেলার। এরপর চলতি বছরের গত ১ মে পূর্ব পরিকল্পনামতে ইমরান, শাওন, তাহের ও আব্বাসসহ কয়েকজন তাসিনকে ফুঁসলিয়ে পূর্বাচলের লেকের কাছে বেড়াতে নিয়ে গলাটিপে হত্যা করে লাশ লেকে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে মায়ের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করে তার বন্ধু ইমরানকে শনাক্ত করে। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেয়া তথ্যমতে, শাওন, তাহের ও আব্বাসকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্তকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের পর সবকিছুই অজ্ঞাত ছিল। গ্রেফতারকৃত ৪ আসামি অটোরিকশাচালক।