ই-মেইল থেকে চুক্তিপত্র মুছে দিয়ে কোম্পানির কোটি টাকার ক্ষতি

image

পাল্টে গেছে অপরাধের ধরন। প্রতিনিয়ত দেশে নতুন নতুন কৌশলে অপরাধ ঘটছে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে সংঘবদ্ধ চক্র চাকরী করতে গিয়েও কর্মস্থলে নানা ভাবে প্রতারণা করছে। তারা কোম্পানীর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীক চুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ই-মেইল হ্যাক করে এবং পার্সওয়ার্ড পরিবর্তন করে পুরো গোপন তথ্য সব নিজেদের কব্জায় নিয়ে কোম্পানীকে বিপাকে ফেলছে। এতে কোম্পানী যেমন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্টসহ অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। এভাবেই রাজধানীর রামপুরা এলাকার একজন প্রবীন মুক্তিমুদ্ধা ও ব্যবসায়ী মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে অবশেষে পুলিশের সহায়তার জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ বিষয়টি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হিসেবে নিয়ে তদন্তে নেমেছেন।

ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন হায়দার তার লিখিত অভিযোগে বলেন, রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকায় তার একটি কল সেণ্টার রয়েছে। অভিযুক্ত (বিবাদী) রুনা খাতুন নাকে একজন তার ই-মেইল ব্যবহার করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তিনি ব্যবসার কাজে প্রায় সময় বাহিরে থাকতেন। গত ২১ এপ্রিল-২০১৯ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি বাহিরে ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি অফিসে ফিরে তার ই-মেইল লগইন করতে পারছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে তিনি অভিযুক্ত রুনা খানকে জিজ্ঞাসা করলে সে তাকে তার মোবাইল নম্বর থেকে ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বরে ম্যাসেজের মাধ্যমে একটি পার্সওয়ার্ড পাঠায়। তাকে পার্সওয়ার্ডের বিষয় জিজ্ঞাসা করলে সে ওই ব্যবসায়ীকে জানায়, আপনার ই-মেইল হ্যাক করে এ পার্সওয়ার্ড পরিবর্তন করে নিজে ব্যবহার করছি। এরপর অভিযুক্ত রুনা খাতুনের দেয়া পার্সওয়ার্ড দিয়ে ই-মেইল লগইন করে এবং পার্সওয়ার্ড পরিবর্তন করে নিজে নতুন পার্সওয়ার্ড দেয়। পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে অন্য একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার লেনদেনের টাকা পরিশোধ করার জন্য বিল পাঠালে তারা টাকা পরিশোধ করে না। পরে দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অফিসের টেলিফোনে যোগাযোগ করলে উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাকে জানায় তাদের সঙ্গে (বাদি) ব্যবসায়ীর চুক্তি নেই। যে চুক্তি ছিল তা ২০১৭ সালে শেষ হয়ে গেছে। তিনি চুক্তির ব্যাপারে চেলেঞ্জ করে তার ই-মেইল এ প্রবেশ করে দেখতে পায় উক্ত চুক্তি নামাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অভিযুক্ত রুনা খাতুন ও ২ নম্বর অভিযুক্ত রুমা (তার প্রতিষ্ঠানের হিসাব শাখার কর্মরত ছিল) পরস্পর যোগ সাজশে মুছে ফেলে তার প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ ৮৬ হাজার চারশত টাকা ক্ষতি সাধন করেছে। এরপরও ওই ব্যবসায়ী (সৈয়দ মহিউদ্দিন হায়দার) পূর্ণরায় তার পাওনা টাকার জন্য যোগাযোগ করলে দেনাদার ফোনে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তোমার অফিসের এডমিন রুনা খাতুন ও রুমার সঙ্গে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে তোমার ই-মেইল হ্যাক করে দেনাদার প্রতিষ্ঠানটির চুক্তিনামা মুছে ফেলার জন্য বলি। চুক্তি নামা মুছে ফেলার পর উক্ত ২০ লাখ টাকা পৌছিয়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ২জন প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে যায়। তারা পালিয়ে যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের মালিককে কিছুই বুঝে দেয়নি। এরপর ভূক্তভোগী কোম্পানীর মালিক তার অফিসের মালামাল থেকে কিছু মালামালের হদিস পাচ্ছিলো না যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ১২ হাজার ৮শ টাকা। উক্ত মালামালের ব্যপারে প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি আনসার আলী জানায়, অভিযুক্ত রুনা ম্যাডামের নির্দেশে ২ জন লোক ভিতরে প্রবেশ করে । তারা হলো রফিকুল ইসলাম ও তাসনুর বেগম। তারা বাহির হয়ে যাওয়ার সময় কিছু মালামাল নিয়ে যায়। আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে বলে, মেরামতের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। আসামিরা পরস্পর যোগ সাজশে ভূক্তভোগী বাদির ই-মেইল হ্যাক করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলে এবং ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান হতে মালামাল চুরি করে নিয়ে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে। এ মামলার অভিযুক্ত আসামি মোট ৬জন।

তারা হলো, মোছাঃ রুনা খাতুন, জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে রুমা, মোঃ সোহাগ, মোঃ শরিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও তাসনুর বেগম। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ভাবে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে বহু ব্যবসায়ী প্রতারণার শিকার হয়ে সব কিছু হারিয়েছে। অনেকেই পুরো গোপন নথি জালিয়াতি করে নিজের অনুকুলে নিয়ে নকল করে নিজেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। যার ফলে ছোটখাট বহু প্রতিষ্ঠান আর্থিক ভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার শাখা থেকে এ ই ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আমানত হিসেবে রাখা ইয়াবা সেবন করে ফেলায় বন্ধুকে হত্যা

image

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে কোন আসামির কি কাণ্ড ছিলো!

image

হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে ক্যাসিনো খালেদ

image

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : আবরার পানি চেয়েছে দেওয়া হয়নি, হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু নেয়নি বড় ভাইয়ারা

image

মা ইলিশের লালসায় নদীতে লুঙ্গি পড়া জেলের সাজে আটক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নি প্রশাসন

image

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে খালেদ-শামীমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

image

টং এর দোকানদার টু ঢং এর কাউন্সিলর ভায়া কোন এক সাবেক প্রতিমন্ত্রী

image

স্পর্শ ছাড়াই ঘুষের টাকা স্ত্রীর কাছে পৌঁছে যেতো

image

তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

image