কমলগঞ্জে মুক্তিযােদ্ধার স্ত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে হত্যাচেষ্টা

image

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে একজন মুক্তিযােদ্ধার স্ত্রী ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও অভিযুক্ত বখাটেদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনাটি উপজেলার পতনঊষা ইউনিয়নের ধােপাটিলা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযােদ্ধা (বর্তমানে আবুধাবী প্রবাসী) মাে: নজরুল ইসলামের স্ত্রী। নির্যাতনের শিকার নুরজাহান ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে মৌলভীবাজার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সদস্যা ছাড়াও একাধারে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরােধ কমিটির সদস্য, ইউনিয়ন মহিলা আ’লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, শ্রী সূর্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য। এছাড়াও তিনি উপত ঊয়া ইউপির টানা ১৪ বছরের সদস্য ছিলেন।

নুরজাহান ইসলামের পুত্র সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক কামরুল আই রাসেল বলেন, একই গ্রামের আবুধাবী প্রবাসী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে তাদের পরিবারের জমিসংক্রান্ত বিরােধ চলে আসছিল। ক’দিন আগে তার স্ত্রী হাসনা বেগম বাড়িতে দেয়াল নির্মাণ করতে চাইলে নুরজাহান ইসলাম সীমানা নির্ধারণ করে তা নির্মাণের অনুরােধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হাসনা ফােন করে স্বামীকে দেশে আনেন। সােমবার (১৯ অক্টোবর) সে দেশে এসে নুরজাহানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে তিনি বাড়ির পাশে একটি দােকানে গেলে পেছন থেকে এসে জসিম তার ওপর এলােপাথারি আক্রমণ চালায়। সে কয়েকজন সহযােগী নিয়ে ম্যাগনেশিয়াম টর্চ লাইট, রড ও দা দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রচণ্ড রক্ত ঝরা অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর আরো কয়েকজন এসে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে নির্যাতন চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে চলে যায়। স্থানীয় লােকজন বিষয়টি দেখে তাকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রহণ করেনি। পরে তাকে মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার মাথায় বড় ধরণের তিনটি ফাটল রয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী হাসপাতালে ছুটে আসেন।

এদিকে, আহত নুরজাহানের ছােট ছেলে পতন ঊষা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম রুবেল বাদী হয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। তবে তিনদিনেও পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, আসামী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে পাওয়া না গেলেও তার বড় ভাই নঈমুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধ রয়েছে। তবে এ ধরনের হামলা ও মারধর মোটেই উচিৎ নয়। আমি বিষয়টি সমাধানের জন্য বিভিন্ন নেতাদের কাছে যাচ্ছি; যাতে এটি শক্তভাবে সমাধান করা যায়।