গোয়েন্দা তবে টাকা উত্তোলন করে বেরিয়ে আসা ব্যক্তিদের : আটক ৬

image

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কালো গ্লাসের মাইক্রোবাস নিয়ে অপেক্ষা করতো তারা। টার্গেট থাকতো ব্যাংক বা এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করে বেরিয়ে আসা ব্যক্তিরা। টার্গেট করা ব্যক্তিটি টাকা নিয়ে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাকে গাড়িতে ওঠানো হতো। এরপর কেড়ে নেওয়া হতো সঙ্গে থাকা টাকা স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিস। রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে এই কৌশলে ডাকাতি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে যাত্রাবাড়ী সাইনবোর্ড এলাকায় জামিয়াতু ইব্রাহিম মাদ্রাসা সড়কের সামনে থেকে এই চক্রের ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (পূর্ব)। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি ও ২ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হায়েস মাইক্রো বাস জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে আরও তিনজন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-ঝালকাঠির বজলু হোসেন (৩৬), চাঁদপুর মতলব এর আফসার হোসেন বাবু (৩২) চট্টগ্রাম সন্দ্বীপ এর মোহাম্মদ নুরুল আফসার (৪২), ঝালকাঠি নলছিটি মোহাম্মদ হারুন (৪৮), নেত্রকোনা সদর উপজেলার আলামিন (৩৮) ও ও মোহাম্মদ মঞ্জু মিয়া (২৮)। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ( পূর্ব) গাড়ি চুরি-ছিনতাই উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের সহকারী কমিশনার সিকদার মোহাম্মদ হাসান ইমামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আসামিরা ও জব্দকৃত আলামত ডিবি পূর্ব বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। মামলায় গ্রেফতার ৬জন ছাড়াও পলাতক আব্বাস (২৯) শামসুল হক (৩৬) রহিম ওরফে রাসেলকে মামলার আসামি করা হয়েছে। মামলাটির বাদী হয়েছেন ডিবি পূর্ব বিভাগের গাড়ি চুরি উদ্ধার ও প্রযুক্তি টিমেয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রহমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে পূর্ব বিভাগের এই টিমের কাছে তথ্য আসে যে, যাত্রাবাড়ী সাইনবোর্ড এলাকায় জামিয়াতু ইব্রাহিম মাদ্রাসা রোড সংলগ্ন বাসের দোকানের সামনে ভুয়া ডিবি পুলিশের ৮-৯ জনের একটি দল মাইক্রোবাস নিয়ে ডাকাতির জন্য অবস্থান করছে। তাদের কাছে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং মাইক্রোবাসটিকে ঘেরাও করে ফেলে। এসময় গাড়ির সামনে থাকা ২-৩ জন পালিয়ে যায় এবং ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার বজলু হোসেনের দেহ তল্লাশি করে ডান কোমরের গোজা অবস্থায় একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ এম এম পিস্তল পাওয়া যায়। যার গায়ে লেখা ছিল, সাপ্লাই ফর অনলি আর্মি। পিস্তলটি আমেরিকার তৈরি। পিস্তলে দুই রাউন্ড গুলি লোড করা ছিল। এছাড়াও তার ডান হাতে থাকা একটি কাগজের শপিং ব্যাগ থেকে ২ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। গ্রেফতার আফসার হোসেনের বাম কোমর থেকেও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়, যা আমেরিকার তৈরি। সঙ্গে গুলি ছিল ৬ রাউন্ড। গ্রেফতার নুরুল আফসারের ডানপাশের কোমরের দিক থেকেও একটি বিদেশি পিস্তল পাওয়া যায়, যাতে ২ রাউন্ড গুলি ছিল। তাদের সঙ্গে থাকা হায়েজ গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ‘পুলিশ’ লেখা একটি স্টিকার উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার ৬জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সুকৌশলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তিকে টার্গেট করতো। টাকা উত্তোলনের পর টার্গেট করা ব্যক্তিকে অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা গাড়িতে উঠিয়ে নিতো। গাড়িতে ওঠানোর পর টার্গেট ব্যক্তির টাকা পয়সা স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যেত। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার ৬ জনসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।