জালিয়াত প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট গ্রুপের ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক

image

খেলাপি গ্রাহক ‘জালিয়াত প্রতিষ্ঠান’ ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫ প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া এবং সেই ঋণের টাকা উত্তোলন করে পাচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদের সহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলার পর এবার জালিয়াত প্রতিষ্ঠানের ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক করছে দুদক। ঋন জালিয়াতির ঘটনায় করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ পরিচালক গুলশান আনোয়ারের আবেদনের পেক্ষিতে রোববার (১৩ অক্টোবর) মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর মামলার বাদী ও তদন্তকারী কমকর্তা গুলশান আনোয়ারের নেতৃত্বে আদালতের আদেশে সম্পত্তি ক্রোক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারী জালিয়াতীর মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঋন নিয়ে সেই ঋনের টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এ এ কাদেরসহ ৭ কর্মকর্তা এবং জনতা ব্যাংকের ১৫ কর্মকর্মাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৫ টি মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক( বর্তমানে উপ পরিচালক) গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে রাজধানীর চক বাজার থানায় এসব মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোর তদন্তের দায়িত্ব পান বাদী নিজেই। মামলাগুলো তদন্ত তদারকি করছেন পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

দুদক সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কালে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে পারেন, ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৬০৫ শতাংশ জমি রয়েছে মানিকগঞ্জের সিংরাই উপজেলায়। এ সম্পত্তির মূল্য আনুমানিক ২০ কোটি টাকা। অন্য সম্পত্তি ব্যাংকের কাছে মর্গেজ থাকলেও মানিকগঞ্জের সম্পতি ব্যাংকের কাছে মর্গেজ নেই। এসব সম্পত্তি অন্য জায়গায় বিক্রি বা হস্তান্তর করার পক্রিয়া চলছে। যেহেতু ক্রিসেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে ঋন জালিয়াতীর অভিযোগে ৫ টি মামলার তদন্ত চলছে তাই তদন্তকালে যাতে ক্রিসেন্ট গ্রুপ কোন সম্পদ বিক্রি করতে না পারেন এ জন্য আদালতে একটি আবেদন করেন। রোববার শুণানী শেষে মহানগর জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েসের আদালতে ওই সম্পত্তি ক্রোক করার জন্য দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ গুলশান আনোয়ারকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে দুদক টিম।

আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান উল্লেখ করেন, অসৎ উদ্দেশ্যে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জনতা ব্যাংক লি:, প্রধান কার্যালয়ের শতার্দি লঙ্ঘন করে জাল-জালিয়াতি আশ্রয়ে গ্রাহক কর্তৃক রপ্তানি না করেও ভুয়া ডকুমেন্ট দেখিয়ে এফডিবিপি ও প্যাকিং ক্রেডিট বাবদ জনতা ব্যাংক লি: থেকে টাকা উত্তোলন করে এবং রপ্তানি ঋণ সুবিধা গ্রহণপূর্বক অর্থ আত্মসাত করে দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪০৯/১০৯/৪২০/৪৬৭/৪৭১ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২),(৩) ধারায় চকবাজার মডেল থানায় ৫টি মামলা রুজু করা হয়। আসামী এম.এ কাদের উক্ত সম্পত্তি সমূহে অবৈধভাবে অর্জন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়। আসামী এম.এ কাদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত বর্নিত হাবর সম্পদসমূহ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর, বন্ধক বা বেহাত করার প্রচেষ্ট করছেন মর্মে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়। মামলা নিস্পত্তির পূর্বে বর্নিত সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে মামলার উদ্দেশ্যই ব্যহত হবে। তাই অবিলম্বে নিম্ন তফসিলে বর্নিত সম্পদসমূহ ক্রোক করা একান্ত প্রয়োজন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আদালত শুনানী শেষে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার চারিগ্রাম ইউনিয়নের দাসেরহাটি মৌজার স্থিত ১৬ টি দলিলে মোট ৬০৫ শতাংশ জমি বিজ্ঞ মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে,এম ইমরুল কায়েস কর্তৃক ক্রোক করার আদেশ প্রদান করেন । রোববার আদেশ গৃহীত হয়। ওই সম্পত্তি সমূহের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। ওই সম্পত্তি সমূহ ক্রোক করতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. এ কাদের জনতা ব্যাংকে এলসি করে বিদেশে পণ্য রপ্তানীর করার আড়ালে জনতা ব্যাংক ইমামগঞ্জ শাখা থেকে কয়েক শত কোটি টাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে রপ্তানীর প্রসিড তিনি দেশে আনেন নি। তিনি রপ্তানীর আড়ালে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে তা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জমিসহ অন্যান্য সম্পত্তি ক্রয় করেন। এ সমস্ত সম্পত্তি তিনি ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ রাখেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে বিভিন্ন জায়গায় যাচাইয়ের চিঠি দিলে এ সমস্ত লুকায়িত সম্পদের তথ্য পান। যেহেতু এ সম্পত্তি ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ নেই এবং ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালকসহ বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে দুদক কর্তৃক ৫ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাই আসামীরা এ সম্পত্তি অন্য কারো নামে রুপান্তর করতে পারেন এমন তথ্য সাপেক্ষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ১৮/মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১৪ ধারার আওতায় এম এ কাদেরের সম্পদ ক্রোকের এ আবেদন করেন।

আমানত হিসেবে রাখা ইয়াবা সেবন করে ফেলায় বন্ধুকে হত্যা

image

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে কোন আসামির কি কাণ্ড ছিলো!

image

হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে ক্যাসিনো খালেদ

image

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : আবরার পানি চেয়েছে দেওয়া হয়নি, হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু নেয়নি বড় ভাইয়ারা

image

মা ইলিশের লালসায় নদীতে লুঙ্গি পড়া জেলের সাজে আটক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নি প্রশাসন

image

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে খালেদ-শামীমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

image

টং এর দোকানদার টু ঢং এর কাউন্সিলর ভায়া কোন এক সাবেক প্রতিমন্ত্রী

image

স্পর্শ ছাড়াই ঘুষের টাকা স্ত্রীর কাছে পৌঁছে যেতো

image

তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

image