জি কে শামীমকে প্রকল্প সরবরাহের অভিযোগে প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলামসহ ৩জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

image

ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সুবিধায় আলোচিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীমকে বিভিন্ন প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন নেওয়াসহ বিভিন্নভাবে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলামসহ ৩জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকমাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন টিম রোববার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০ টা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অন্যরা হলেন পদ্মা অ্যাসোসিয়টস ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ঠিকাদার মিারুল চাকলাদার এবং কক্সবাজার চকনিয়ার সাহারবিল ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর তাদের তলব করে নোটিশ পাঠায় দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলামসহ কয়েকজন একচেটিয়াভাবে গণপূর্তের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন। টেন্ডারবাজ হিসেবে খ্যাত জিকে বিল্ডার্সের মালিক গোলাম কিবরিয়া ওরফে জিকে শামীম ছিলেন গণপূর্তের টেন্ডার নিয়ন্ত্রক। গণপূর্তে যখনই কোন কাজ বা প্রকল্পের টেন্ডার হতো সেখানে দলবল নিয়ে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে টেন্ডার জমা দিতে যেতেন জিকে শামীম। এছাড়া জিকে শামীমকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করতেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড মইনুল ইসলাম। বেশ কিছু প্রকল্প অনৈতিকভাবে জিকে শামীমকে পাইয়ে দিয়েছেন ড. মইনুল ইসলাম। জিকে শামীমকে কমিশনে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে সরকারের যেমন ক্ষতি করেছেন তেমনি নিজেও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এছাড়া জিকে শামীমের সঙ্গে তিনি কোন কোন প্রকল্পে ব্যবসায়ীক অংশিদারও ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গত ২৬ ডিসেম্বর মঈনুলসহ ৩ জনকে দুদক তলব করে। রোববার তাদের হাজির হওয়ার কথা ছিলো। সেই মোতাবেক হাজির হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, পদ্মা অ্যাসোসিয়োটস ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ঠিকাদার মিনারুল চাকলাদার ও কক্সবাজারের চকরিয়ার সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম জিকে শামীমের ব্যবসায়ীক অংশিদার। জিকে শামীম ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ঠিকাদারী করেছেন। অনেক প্রকল্পে অনীয়ম করেছেন। এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে মিনারুল চাকলাদার এবং আবদুল হাকিমের সহযোগিতা ছিলো। এ কারণে তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, টেন্ডার নিয়ন্ত্রনসহ অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গণপূর্তের আরো কয়েকজন অতিরিক্ত প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ প্রকৌশল বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা দুদকের নজরদারীর মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেউদ্দিনসহ অনেক প্রভাবশালী প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের প্রস্তুতি রয়েছে। একটি তালিকাও তৈরী করা হয়েছে। যদিও ১৪ জন প্রকৌশলীর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পর্যায়েক্রমে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এদের বিরুদ্ধে অভৈধভাবে ঠিকাদার জিকে শামীমকে কমিশনের বিনিময়ে সরকারী প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া, জিকে শামীমের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের সঙ্গে ব্যবসায়ীখ অংশিদার হওয়া এবং প্রকল্পের কাজে নানা অনীয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করার অভিযোগ রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে দেশের বাইরে অবৈধ অর্থ পাচার করারও অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ গত ২৬ জিসেম্বর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড মইনুলসহ ৩ জনকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, ‘ঠিকাদার জি কে শামীমসহ অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের শত শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারী কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্যাসিনো ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জন করে বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের জন্য আপনার অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য রেকর্ড করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।’ এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীকে গ্রেফতার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের করে দুদক। যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা হলেন- ঠিকাদার জি কে শামীম, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূইয়া, অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান, বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব, ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট, এনামুল হক আরমান, যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা, কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ, যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান, ব্যবসায়ী মো. সাহেদুল হক এবং গণপূর্তের সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. মুমিতুর রহমান ও তার স্ত্রী মোছা. জেসমীন পারভীন ।

সম্রাট-শামীমের নিয়ন্ত্রনে গণপূর্ত টেন্ডার ভাগ-ভাটোয়ারা করেছেন মুশফিক ও শাহে আলম

image

আওয়ামী লীগ নেতা ডাবলুর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করবে দুদক

image

দক্ষিনের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

image

ছদ্মবেশে পাসপোর্ট প্রত্যাশী দুদকের নিকট সরাসরি ঘুষ দাবি

image

দৈনিক পত্রিকার ওয়েবসাইটগুলোর নকলকারী ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারক গার্ডিয়ানের এমডি গ্রেফতার

image

নাম অপ্রকাশিত এক সরকারি কর্মকর্তা মোটা ঘুষ লেনদেনে প্রমাণিত

image

শিক্ষার প্রকৌশল বিভাগের ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

image

জি কে শামীমের অবৈধ কজের সহযোগী হয়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুই প্রকৌশলীসহ তিনজনকে দুদকের তলব

image

কিশোরগঞ্জের এমপি আফজালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের নেমেছে দুদক

image