জিনের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম গ্রেফতার

image

জিনের ভয় দেখিয়ে একাধিক নারী ও কিশোরকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর দক্ষিণখানে মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। তার নাম ইদ্রিস আহম্মদ (৪২)। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার ইদ্রিস আহম্মদ দক্ষিণখানের একটি মসজিদের ইমাম। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রায় ১৮ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে চার-পাঁচ জন নারী ও ১০-১২ কিশোরকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জিনের ভয় দেখিয়ে ইদ্রিস এসব অপকর্ম করে আসছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সারোয়ার বিন কাশেম। সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে লে. কর্নেল সারোয়ার বলেন,ইদ্রিস দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজ দেওয়া এবং জিনের ভয় দেখিয়ে নারীদের ধর্ষণ করতো। তার মসজিদ ও মাদ্রাসার খাদেম এবং ছাত্রদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করতো সে। একইসঙ্গে সে এসব মোবাইলে ধারণ করে রাখতো এবং কাউকে না বলার জন্য জিনের হুমকি দিতো। ইদ্রিস প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনাগুলো স্বীকার করেছে।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, মসজিদে নামাজ পড়ানোর পাশাপাশি একটি মাদ্রাসাতেও শিক্ষকতা করত ইমাম ইদ্রিস আহম্মেদ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রচার করতে থাকেন যে, তার কাছে জিন বন্দি আছে। জিন দিয়ে রোগ সারানো হয়। এমন তথ্য প্রচার হওয়ার পর এলাকার মহিলারা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য তার কাছে যেতে শুরু করে। আর এ সুযোগে চিকিৎসার জন্য আসা মহিলাদেরকে জিনের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করত এ ইমাম। আর সে ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করাতো অন্য সহযোগীদের দিয়ে। পরে সেই সহযোগীকে দিয়েও ধর্ষণ করাতো ইদ্রিস আহম্মেদ। এতে করে যে ভিডিও করছে সে আর বাহিরে কারও কাছে অভিযোগ করার সাহস পেত না।

তিনি আরও বলেন, ঠিক কয়জন নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে সেটির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা না পেলেও ৪-৫ জন নারীকে যে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে সেটির ভিডিও ইদ্রিস আহম্মেদের মোবাইলে পাওয়া গেছে। যদিও এসব নারীরা সামাজিক অবস্থান এ মানসম্মানের ভয়ে কারও কাছে কোনো অভিযোগ করার সাহস পাননি। মাদ্রাসায় পড়তে আসা ১০/১২ বছরের কমপক্ষে ১২ জন শিশুকে সে বারংবার বলাৎকার করেছে। শুধু তাই নয়, মাদ্রারাসা ও মসজিদে থাকা তার খাদেমদেরকেও সে একাধিকবার বলাৎকার করেছে।

তাকে গ্রেফতারের পর সেসব খাদেমরা অকপটে তার কাছে জিম্মি হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছে বলে জানান তিনি। এমনকি মাদ্রাসার একজন ছাত্রকে গত ৫ বছর যাবৎ সে বলাৎকার করে আসছিল। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন,মসজিদের একটি বিশেষ কক্ষে সে ঘুমাতো। তার সকল অপকর্ম ওই কক্ষেই সম্পন্ন করত। আর সেই অপকর্মের ভিডিওগুলো সে তার খাদেমদের দিয়ে ধারণ করাতে বাধ্য করত। যেসব নারী একবার তার অপকর্মের শিকার হওয়ার পর আর তার কাছে যেতে চাইত না তাদেরকে তিনি জিন দিয়ে ক্ষতি করাবেন বলে ভয় দেখিয়ে আবার ধর্ষণ করতেন। আবার যেসব শিশু বা শিক্ষার্থী তার নির্যাতনের পর আর পড়তে যেত না তাদের অভিবাবকদেকে ইমাম ইদ্রিস আহম্মেদ বলত-যদি তারা না যায় তাহলে আর কখনও ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করতে পারবে না। জিন দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন ভয় দেখানোর ওইসব শিশুকে ফের তার কাছে পড়তে পাঠানো হতো।

ইদ্রিস আহম্মেদকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এই ধর্ষক প্রত্যেকটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। জিন নিয়ে সে যে প্রচারণা চালিয়েছে সেটার সত্যতাও স্বীকার করেছে। তার সম্পর্কে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত ইদ্রিস আহম্মেদের বাড়ি সিলেটে। সেখানকার একটি মাদ্রাসা থেকে সে ১৯৯৮ সালে টাইটেল পাস করে। এরপর সে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের একটি মসজিদে ইমামতি এবং পাশাপাশি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর ২০০২ সালে ঢাকায় এসে দক্ষিণখানে একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হয়। সে প্রায় ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করে আসছে। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।