ডিআইজি মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ চার জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

image

ডিআইজি মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ চার জনের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। । ২৪ জুন সোমবার দুদক পরিচালক মনজুর মোরশেদ বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা -১ এ মামলাটি দায়ের করেন। থানার পরিবর্তে দুদক কার্যালয়ে মামলার সুযোগ তৈরী হওয়ার পর এটিই প্রথম মামলা।

এদিকে মিজানের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের দায়িত্ব পাওয়া দ্বিতীয় অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুর বাছিরকে দায়মুক্তি দেওয়ার চুক্তিতে ৪০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে জিআইজি মিজানকে তলব করে নোটিশ পাঠিয়েছে দুদক। সোমবার পাঠানো নোটিশে আগামী ১ জুলাই দুদক কার্যালয়ে তাকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ শাখার উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান,সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান,তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রতœা, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান এবং ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি সাত লাখ ৫ হাজার ২১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। মামলার বাদী অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক পরিচালক মনজুর মোরদেশ।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এহাজারে বলা হয়, আসামি মিজানুর রহমান অবৈধ অর্থ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার নিকট আত্মীয় স্বজনের নামে বিভিন্ন সম্পদ ক্রয় করে কৌশলে নিজেই ভোগ দখল করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়: আসামি মিজান তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানের নামে ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গুলশানের পুলিশ প্লাজায় ২১১ বর্গফুট আয়তনের একটি দোকান (৩১৪) ২৪ লাখ ২১ হাজার টাকা দিয়ে বরাদ্দ নেন। এই দোকান স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের নামে ভাড়া দেখিয়ে নিজের দখলে রাখেন মিজান। নিজের অর্থে এই দোকান কিনলেও তিনি তা গোপন করেন। আসামি মিজান নমিনী হয়ে মাহমুদুল হাসানের নামে ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর ওয়ান ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় এফডিআর অ্যাকাউন্ট খোলে ৩০ লাখ টাকা জমা করেন। দুদকের অনুসন্ধানকালে এই এফডিআর ভেঙ্গে সুদ আসলে ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭ টাকা উত্তোলন করে স্থানান্তর করেন। আসামি মিজান তার ভাই মাহবুবুর রহমানের নামে ২০১৬ সালে নিউ বেইলী রোডে ৬৬ লাখ টাকায় ২৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনে নিজের দখলে রাখেন। মিজান তার ভাগ্নে মাহমুদুল হাসানের নামে ২০১৬ সালে রাজধানীর কাকরাইলের ’নির্মাণ সামাদ ট্রেড সেন্টারে’ ১৭৭৬ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যক ফ্ল্যাট এক কোটি ৭৮ লাখ টাকায় কেনেন।

দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সোমবার মামলা করার পর পর ডিআইজি মিজানসহ চার আসামির বিদেশে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক। আসামিরা যাতে বিদেশ যেতে না পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইমিগ্রেশন পুলিশের বিশেষ সুপারের বরাবর চিঠি দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ। আসামিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সন্দেহ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা চিঠিতে এই অনুরোধ জানান।

ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবঃ

দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিআইজি মিজানকে ১ জুলাই দুদক কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে বলে দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই দিন সকাল ১০টায় তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফ্যানফিল্ল্যার কার্যালয়ে হাজির থাকতে সোমাবার নোটিস পাঠানো হয়েছে। একই অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে একই দিন দুপুর ২টায় তলব করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এছাড়া ঘুষ লেনদেনের সংবাদ প্রচার করা বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার ইমরান হোসেন সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদেন জন্য ২৬ জুন তলব করেছে দুদক।

গত ৯ জুন টেলিভিশনে ডিআইজি মিজান দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা বাছির তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। দাবির সপক্ষে দুজনের মধ্যে ‘কথোপকথনের’ কয়েকটি অডিও ক্লিপ সংবাদমাধ্যমকে দেন তিনি। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পরদিন তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বাছিরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে দুদক।

১১ জুন মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে মঞ্জুর মোর্শেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই কমিটিগত রোববার অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দিলে সোমবার মামলার অনুমোদন দেয় কমিশন। এর আগে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ভরখাস্ত হওয়া দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুর বাছির। গত ৩০ মে তিনি ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন। ওই অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্র ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে দুদফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠে এনামুর বাছিরের বিরুদ্ধে। এনামুর বাছিরের আগে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অণুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন উপ পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।