দক্ষিনের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

image

ক্যাসিনো কাণ্ডসহ বিভিন্নভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার, এবং সরকারী প্রকল্পে টেন্ডার নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে অবৈধভাবে কাজ ভাগিয়ে নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান সরকারের নেতৃত্বাধীন টিম রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ থেকে বিকেল পর্যন্ত কাউন্সিলর রতনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ক্যাসিনোকাণ্ডে বিতর্কিত যুবলীগ নেতা (বর্তমানে বহিস্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূইয়া এবং বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগে রয়েছে । গত ৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার তাকে দুদকে তলব করে নোটিশও পাঠানো দুদক ।

দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান সরকারের স্বাক্ষরিত তলবী নোটিশে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, ‘ঠিকাদার জি কে শামীমসহ অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাদের শত শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বড় বড় ঠিকাদারী কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্যাসিনো ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জন করে বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আপনার বক্তব্য রেকর্ড করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।

দুদক সূত্র জানায়, ডিএসসিসির ২০ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রতনের বিরুদ্ধে শূণ্য থেকে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ পেয়েছে দুদক। দুদকের কাছে অভিযোগে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে নেওয়ার, কাজে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারী অর্থ আত্মসাত এবং ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন কাউন্সিলর রতন। যুবলীগের বিতর্কিত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূইয়া এবং বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের সঙ্গে কাউন্সিলর রতনের সঙ্গে সখ্যতা ছিলো। তাদের সঙ্গে সখ্যতার মাধ্যমে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ অনীয়মতান্ত্রিকভাবে ভাগিয়ে নিয়েছেন এবং এসব প্রকল্পের কাজে ঘুষ দিয়ে ঠিকমতো কাজ না করেই বিল উঠিয়ে নিয়েছেন। ক্ষমতার মাধ্যমে অবৈধভাবে নামে বেনামে বিপুল পরিমান সম্পদের মালিক হয়েছেন কাউন্সিলর রতন। এসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার সম্পদের মালিক হওয়ার বৈধ উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তাকে দুদকে তলব করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্লাটের মালিক কাউন্সিলর রতন। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় তার নামে বেনামে বিপুল পরিমান সম্পদ থাকার তথ্য রয়েছে দুদকের কাছে। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের একটি অংশ দেশের বাইরেও পাচারের অভিযোগ রতনের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চলছে। অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা যারা নিয়ন্ত্রন করতেন তাদের মধ্যে কাউন্সিলর রতনও একজন ছিলো বলে অভিযোগ রয়ে গেছে।

উল্লেখ গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হয়। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এখন পর্যন্ত ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০টি মামলা করেছে দুদক। ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রায় ২০০ জনের তালিকা ধরে দুদক অনুসন্ধান করছে দুদক। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে অনুসন্ধানে টিমের অপর সদস্যরা হলেন- উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সালাহউদ্দিন, গুলশান আনোয়ার প্রধান, সহকারী পরিচালক মামনুর রশিদ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম, আতাউর রহমান এবং নিয়ামুল আহসান গাজী।

সম্রাট-শামীমের নিয়ন্ত্রনে গণপূর্ত টেন্ডার ভাগ-ভাটোয়ারা করেছেন মুশফিক ও শাহে আলম

image

আওয়ামী লীগ নেতা ডাবলুর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করবে দুদক

image

ছদ্মবেশে পাসপোর্ট প্রত্যাশী দুদকের নিকট সরাসরি ঘুষ দাবি

image

দৈনিক পত্রিকার ওয়েবসাইটগুলোর নকলকারী ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারক গার্ডিয়ানের এমডি গ্রেফতার

image

নাম অপ্রকাশিত এক সরকারি কর্মকর্তা মোটা ঘুষ লেনদেনে প্রমাণিত

image

শিক্ষার প্রকৌশল বিভাগের ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

image

জি কে শামীমের অবৈধ কজের সহযোগী হয়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুই প্রকৌশলীসহ তিনজনকে দুদকের তলব

image

কিশোরগঞ্জের এমপি আফজালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের নেমেছে দুদক

image

জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধানে ব্যবসায়ী মোমতাহিদুরকে জিজ্ঞাসাবাদ

image