দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে নির্দোষ দাবি মাহী বি চৌধুরীর

image

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাহি বি চৌধুরী। রোববার (২৫ আগস্ট) টানা ৫ ঘণ্টা দুদক কর্মকর্তাদের মুখোমুখি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এর আগে রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক টিম। অবৈধ সম্পদ অর্জন আর যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের অভিযোগে তাকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। দুদক সূত্র জানায়, ৭ আগস্ট মাহী বি চৌধুরী ও তার স্ত্রীকে তলব করে চিঠি দেয় দুদক। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে আরও সময় চেয়ে মাহি বি চৌধুরী ও তার স্ত্রীর আবেদনের বিপরীতে ১৮ দিন সময় দিয়ে রোববার উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় তলবি নোটিশ পাঠিয়েছিল দুদক। এর আগে গত ২৮ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মাহি বি চৌধুরীর গুলশানের বারিধারার (রোড-১২, বাড়ি-১৯) ঠিকানায় তলবি নোটিশ পাঠানো হয়। প্রথম ওই নোটিশে তাদের ৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় হাজির হতে বলা হয়েছিল। মাহি বি চৌধুরী ও তার স্ত্রী আশফাহ হকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহিভূর্ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের জুন তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

রোববার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহি বি চৌধুরী। তিনি বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন আর মানি লন্ডারিংয়ের সুযোগ নেই। বাংলাদেশের বাইরে যদি কোন আয়-ব্যয় থাকে, তা বাংলাদেশের বাইরের বৈধ আয় থেকেই হয়েছে। একটি অভিযোগ এসেছে আমার নামে। ওই অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত করছে দুদক। ওই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য আমার বক্তব্য নেয়া প্রয়োজন ছিল। এ জন্য দুদক আমাকে ডেকেছে। আমি আমার বক্তব্য দিয়েছি। আগামী ২৭ কিংবা ২৮ আগস্ট আমার পুরো বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে খোলাসা করব। তিনি বলেন, আমি মনে করি, দুদকে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, সেহেতু দুদক প্রকৃত অথোরিটি। সত্য উদ্ঘাটনের জন্য সময় দরকার। আমার কাছে দুদক যেসব তথ্য চেয়েছে, সেগুলো দেব। দুদক তার মতো কাজ করবে। এর পাশাপাশি আমার কিছু কাজ করতে হবে। পরে সংবাদ সম্মেলনে সব বলব। অভিযোগে সত্যতা কতটুকু, এর পেছনে কী ষড়যন্ত্র রয়েছে- তা বলব।

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন কি না প্রশ্নের জবাবে মাহি বি চৌধুরী বলেন, নির্দোষ প্রমাণ করার কিছু নেই। আমি নির্দোষ- এটি আপনারা দেখতে পাবেন। হয়রানি করা হচ্ছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না না, হয়রানির কিছু নেই। ২৫ দিন ধরে চুপচাপ আছি। যা ইচ্ছা, একতরফাভাবে বলা হচ্ছে। এও দেখেছি, ঘুরে ঘুরে হকার, ব্রোকার বলে বেড়াচ্ছে গরম খবর, গরম খবর- মাহী চৌধুরীর ছয় বাড়ি! এগুলো আমাদের পলিটিক্যাল ট্রায়ালে বেশি হয়। যিনি অভিযোগ করেন, তার ওপরই দায়িত্ব বর্তায় অভিযোগ প্রমাণের। অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গেই যদি মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে যায়, তাহলে যারা শুধু ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বিশ্বাস করেন- তারা এগুলো প্রচার করেন অন্যভাবে। এ অভিযোগগুলো নির্বাচনের আগে থেকে আসা শুরু হয়েছে। আমি দেখেছি, এগুলো মোটামুটি একই অভিযোগ। দুদককে সঠিকভাবে কাজ করতে দেয়া না হলে বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে না। দুদক আমাকে তলব করেছে বলে আমি অভিযুক্ত। তবে এখনও দোষী নই। অনেক সময় আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হয় রাজনীতির কারণে। ধৈর্য ধারণ করলে সত্য উদ্ঘাটিত হবে, তা বিশ্বাস করি।

এদিকে একই অভিযোগে তলব করা হলেও হাজির হননি মাহি বি চৌধুরীর স্ত্রী আশফাহ হক। এ বিষয়ে মাহী বলেন, আমার স্ত্রী অসুস্থ। আমি আমার স্ত্রীকে রিপ্রেজেন্ট করি। আমি এসেছি- এটিই যথেষ্ট বলে মনে করি।