নকশা জালিয়াতির অভিযোগে এফআর টাওয়ারের মালিক গ্রেফতার

image

রাজধানীর বনানীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ এফ আর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে টাওয়ার মালিক কাশেম ড্রাইসেলের কর্ণধার ও বিএনপি নেতা তাসভীর উল ইসলামকে। ১৮ আগস্ট রোববার সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় দুদক। দুদকের করা মামলায় তাসভীরুল ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামী। তিনি এফ আর টাওয়ারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং অবৈধভাবে নির্মিত ১৯ থেকে ২১ তলা ফ্লোরের মালিক।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকতা উপ পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টচার্য জানান, এফ আর টাওয়ারে আগুনে প্রানহানির পর ওই ভবনটি অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান শেষে জাল- জালিয়াতির মাধ্যমে ১৫ তলা পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া ভবনটির নকশা জালিয়াতি করে ২১ তলা পর্যন্ত নির্মানের অভিযোগে জায়গার মালিক সৈয়দ হোসাইন ইমাম ফারুক(এস এম এইচ ফারুক) ডেভেলপার কোম্পানী রুপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল এবং কাশেম ড্রাইসেল এর কর্ণধার এবং ভবন পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাসভীর উল ইসলামসহ ১৯ জনকে আসামী করে গত ২৫ জুন মামলা করেন দুদকের উপ পরিচালখ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক। ওই মামলায় ৩ নম্বর এজাহারনামী আসামী তাসভীর উল ইসলাম। রোববার সেগুন বাগিচা এলাকা থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতার করে।

দুদক সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী তাসভীর উল ইসলাম এফ আর টাওয়ারের ২১, ২২ ও ২৩তম তলা বন্ধক রেখে আর্থিক প্রতিষ্ঠান জিএসপি ফিন্যান্স থেকে ৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। মূলত তিনি অবৈধ জেনেও ২১ ২২ ও ২৩ তলা কিনেছেন। ওই ৩ টি তলা বন্ধ রেখে ঋন জালিয়াতির মাধ্যমে ঋন নিয়ে তা আত্মসাত করেছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভবনটির ভূমিমালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ও রূপায়ণ গ্রুপ যৌথভাবে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। তখন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন দেয়। পরে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ভবনটিকে ২৩ তলা পর্যন্ত বর্ধিত করে নির্মাণ করা হয়। ডেভেলপার কোম্পানি রূপায়ণ ভবনটির ২০ ও ২১তম তলাটি জাতীয় পার্টির প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মাইদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে। মাইদুল ইসলামের কাছ থেকে ফ্লোর দুইটি কিনে নেন কাশেম ড্রাইসেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপি নেতা তাসভীর উল ইসলাম। এরপর তিনি নকশা পরিবর্তন করে ছাদের ওপর আর দুইটি তলা ২২ এবং ২৩ তলা নির্মাণ করেন। তাসভীর উল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপিরও সভাপতি।

চলতি বছরের ২৮ মার্চ এফ আর টাওয়ারে ৮ তলার স্পেকট্রা গার্মেন্টস থেকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্পেক্ট্রা গার্মেন্টেস এর মালিক যুবলীগ নেতা সেলিমউল্লাহ খান। পরে তা উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের পর ভবনটির ইমারজেন্সি সিড়ি বন্ধ থাকায় ভেতরে থাকা বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা আটকা পড়েন। পরে ভেতরে আটকে ধোয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে এবং লাফিয়ে পড়ে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর এফ আর টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাপনা না থাকা, জরুরী সিড়ি না থাকাকে দায়ী করা হয় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে। ভবনটিতে আগুন লাগার পর জরুরী সিড়ি দিয়ে নামতে না পেরে ভেতরে আটকেপড়ে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয় যারা এফ আর টাওয়ারে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর একটি মামলা করা হয়। এরপর ভবনের নকশা জালিয়াতি করে অবৈধভাবে ১৫ তলা থেকে ২১ তলা নির্মানের বিষয়ে অণুসন্ধানে নামে দুদক। ওই অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে কিভাবে জালিয়াতি করে জায়গার মালিক এসএমএইচ ফারুক এবং ডেভলোপার কোস্পানী রুপায়ন গ্রুপ জালিয়াতি করে অবৈধ অংশ নির্মান করে। এ ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।