নিম্নমানের টিন গরীবের ত্রাণ হিসেবে সরবরাহ করে সরকারি অর্থ আত্মসাত

image

গরীবের ত্রাণ হিসেবে বিতরণের জন্য নিম্নমানের টিন সরবরাহ করে সরকারি অর্থ আত্মসাত ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঠিকাদারের মাধ্যমে এসব টিন সংগ্রহ করে দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী (চাহিদা মোতাবেক) টিন সরবরাহ করেনি। টিনে নির্ধারিত হারের পুরত্ব ও সঠিক মান ছিল না। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক। ইতিমধ্যে দুদকের একটি অনুসন্ধান টিম দীর্ঘ চার বছরের অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এবিষয়ে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার‌্য জানান, প্রতিবেদন অনুমোদন হওয়ার আগে এটা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

দুদক থেকে পাওয়া নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৩ থেকে পরবর্তী সমেয়ে দুর্যোগে ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরে কে ওয়াই স্টিল মিলসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ডেউটিন সরবরাহ করে। সরকারের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সরবরাহ না করে নিম্নমানের টিন সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। দুদকের একটি টিম নেত্রকোণা, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় সরেজমিন অনুসন্ধান করে নিম্নমানের বিতরণের সত্যতা পায়। দুদক দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ে গরীব ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘর থেকে টিন সংগ্রহ করে। কেওয়াই স্টিল সিলযুক্ত টিন খুলে এনে বিএসটিআইতে পরীক্ষা করলে সেটা নিম্নমানের বলে প্রমাণিত হয়। ফলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দুদক সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালোতালিকাভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্রের সঙ্গে নমুনা হিসেবে উন্নতমানের ঢেউটিন জমা দেয়। কিন্তু বিএসটিআইর পরীক্ষার সেটি নিম্নমানের বলে প্রমাণিত হয়। পরে সানজি এবং জয় এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইর এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে টিনের নমুনা পাল্টে দেয়। এবিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোহসীন বলেন, নিম্নমানের টিন সরবরাহের বিষয়টি আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।