নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নৌপুলিশের অভিযান

image

দেশের উপকূলীয় জেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়াসহ বিভিন্ন নদীতে সরকার নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে নৌপুলিশ। চলতি মাসের ২২ দিনে বিভিন্ন জেলায় এলাকার নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে নৌপুলিশ। এ সময় অবৈধ জাল ব্যবহার করার অভিযোগে ৬৫ জেলেকে গ্রেফতার এবং ১৩ নৌকা ও ট্রলার জব্দ করা হয়। মূলত নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অভয়আশ্রম হিসেবে গড়ে তুলতে নৌপুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভীন রানু জানান, সম্প্রতি দেখা গেছে, উপকূলীয় জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীতে অসাধু মৎস্য দাদনদারদের ইন্ধনে জেলেরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন। নদীতে কারেন্ট জাল ও বিভিন্ন প্রকারের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করার কারণে ছোট ছোট মাছসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ অবাধে মরে যাচ্ছে। বড় হওয়া ও বংশবিস্তারের আগে মাছ মরে যাওয়ায় নদীতে মৎস্যসম্পদ হ্রাস পেতে শুরু করেছে।

নৌপুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম সম্প্রতি নৌপুলিশের ৮ নৌঅঞ্চল পরিদর্শন করে এসব বিষয়ে অবগত হওয়ার পর নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অভয় আশ্রম যাতে ঠিক থাকে, এ জন্য নৌপুলিশের অভিযান জোরাল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী যে কোন প্রজাতির মাছ ছোট অবস্থায় যাতে মরে না যায়, এ জন্য নদীকে কারেন্টসহ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ সব ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে অভিযান শুরু হয়। গত ২২ দিনের অভিযানে বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, মুন্সীগঞ্জ, বড়গুনা, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৪০ লাখ ৮৪ হাজার ৭০০ মিটার অবেধ জাল জব্দ করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় সোয়া ৫ কোটি টাকারও বেশি। অভিযানে ১৩টি নৌকা ও ১টি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগে ৬৫ জেলেকে গ্রেফতার করে ২৮ জনকে ৬১ হাজার টাকা জরিমানা, ৪ জনকে ১ মাস বিনাশ্রম কারাদ-, ১১ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং ২২ জনকে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে মাছ শিকারের কারণে ১ লাখ ১৭ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। এ সময় ৯ জেলেকে গ্রেফতার করে জেল ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় বিপুল মাছ জব্দ করে বিলিয়ে দেয়া এবং জেলে নৌকা জব্দ করা হয়।

নৌপুলিশ সূত্র জানায়, নদী এলাকায় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অভিযানের পাশাপাশি সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও অভিযান শুরু করেছে নৌপুলিশ। নদীপথ ব্যবহার করে মাদক, অস্ত্রসহ যে কোন অবৈধ মালপত্র চোরাচালান বন্ধ, নদীতে ট্রলার, নৌকা ও পন্যবাহী জাহারে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ঈদযাত্রায় নদী পথ নিরাপদ রাখতে কার্যক্রম শুরু করেছে নৌপুলিশ। ইতোমধ্যে ৮টি নৌঅঞ্চলের লঞ্চ ও ফেরিঘাটগুলোয় অতিরিক্ত নৌপুলিশ সদস্যদের নিয়োগ করা হয়েছে। অজ্ঞান ও মলম পার্টিসহ সব অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নৌপুলিশ সদর দফতর থেকে সার্বিক কার্যক্রম মনিটরং করেন ডিআইজি আতিকুল ইসলাম।