পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

image

নরসিংদী যুব মহিলা লীগের সাবেক নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী দম্পতির প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধভাবে এসব সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৪ আগস্ট মঙ্গলবার দুদক পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দুদকের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে গত বছরের ১২ অক্টোবর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হওয়ার পর পাপিয়া দম্পতির নানা অপকর্মের কাহিনী বের হতে থাকে। এরপর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। প্রায় ১০ মাস ধরে অনুসন্ধান শেষে ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে মামলা করে দুদক। (মামলা নং- দুদক সজেকা ঢাকা-০১ এর মামলা নং-০১, তারিখ ০৪.০৮.২০২০ )

দুদক সূত্র জানায়, ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়ের। মঙ্গলবার দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১২ অক্টোবর চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুলশানে অভিজাত ওয়েস্টিন হোটেলের (রুম নং- ২২০১ প্রেসিডেনসিয়াল স্যুট) এবং রুম নং- ২২০১ চেয়ারম্যান স্যুট) সহ ২৫টি রুমে অবস্থান করে রুম-নাইট, রেস্টুরেন্ট (খাবার), রেস্টুরেন্ট (মদ), স্পা, লন্ড্রি, মিনি বার ফুড, মিনি বার বাবদ মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬০ টাকার বিল শামীমা নূর পাপিয়া নিজেই ক্যাশে পরিশোধ করেন। সে বিলাসবহুল জীবনযাপন পছন্দ করত বিধায় ওয়েস্টিন হোটেলে থাকাবস্থায় সে প্রায় ৪০ লাখ টাকার শপিং করেছে বলে জানায়। গত ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালে এপ্রিল পর্যন্ত ৫ বছর মাসিক ৫০ হাজার টাকা হারে ৩০ লাখ টাকা বাসা ভাড়া দিয়েছে। গাড়ির ব্যবসায় ১ কোটি টাকা এবং নরসিংদীতে কেএমসি কার ওয়াশ সলিউশনে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তার ও তার স্বামীর নামে ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৮/- টাকা জমা আছে। র‌্যাব তার বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। মফিজুর রহমান সুমনের নামে হোন্ডা সিভিএ ২০১২ মডেলের একটি গাড়ি আছে যার দাম ২২ লাখ টাকা। এভাবে ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকা জ্ঞাত সারে অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জনপূর্বক তা খরচ করে। এসব টাকা অজর্নে স্বপক্ষে কোনরূপ বৈধ উৎস তারা দেখাতে পারেনি। বর্ণিত পরিমাণ সম্পদ অর্জনের আয়ের উৎসের স্বপক্ষে কোনরূপ দালিল, রেকর্ডপত্র বা প্রমাণাদি উপস্থাপন না করায় ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার সম্পদ তাদের জ্ঞাত আয়বর্হিভূত অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বলে প্রতীয়মান হওয়ায় এবং জ্ঞাত অপরাধলব্ধ আয়ের দ্বারা অর্জিত উক্ত পরিমাণ জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ তাদের ভোগদখলে রেখে অভিযুক্ত শামীমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তাই এই মামলাটি দায়ের করা হয়।