পিকে হালদারসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের নোটিশ

image

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিংসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি. এর সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধানের স্বাক্ষরিত নোটিশে আগামী ১০ আগস্ট তাদের নথিপত্রসহ দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। প্রশাস্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) ছাড়াও অন্য যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, শাহ ওয়ালেস বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক রেজাউর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল-এর পরিচালক মিজানুর রজমান, মিসেস সৈয়দা রুহি গজনভী, এবং শাহ ওয়ালেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল আলম।

দুদক সূত্র জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্সেসিয়াল লি., রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি. সহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি. এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশাস্ত কুমার হালদার এবং তার সহযোগীরা। মূলত নিজের আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন সহযোগীদের মাধ্যমে পুরো টাকা আত্মসাত করে তা বিদেশে পাচার করেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দুদকের উপ পরিচালক শুলশান আনোয়ার প্রধানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। গত ৯ থেকে ১০ মাস ধরে অনুসন্ধান করে প্রশান্ত কুমার হালদার কর্তৃক ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ মিলেছে। এ বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ৫ জনকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। যাদের নোটিশ দেয়া হয়েছে তারা প্রত্যেকেই অর্থ আত্মসাৎ এবং তা বিদেশে পাচারের ঘটনায় প্রশান্ত কুমার হালদারের সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত।

নোটিশে বলা হয়েছে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি. এর সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রতিষ্ঠানের এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেন্ডেন্ট পরিচালক বানান এবং একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিং’সহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাৎ করেন। পিপলস লিজিং এ আমানতকারীদের ৩০০০ কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেন এব উক্ত কোম্পানিকে পথে বসিয়েছেন। এ সমস্ত কোম্পানির স্থাবর সম্পদ বিক্রি করে দেন এবং আমানতকারীদের শেয়ার পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন।

উল্লেখ্য, প্রশাস্ত কুমার হালদারের(পিকে হালদারের) বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে একটি মামলাও করেছেন। মামলার আগেই দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পালিয়ে যান প্রশাস্ত কুমার হালদার। বর্তমানে তার সম্ভ্যাব অবস্থায় সিঙ্গাপুর অথবা দুবাইতে। ২০১৮ সালে পিপলস লিজিং কোম্পানী দেওলিয়া ঘোষণা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। কোম্পানিটির কাছে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী গ্রাহকরা ১৫শ’ কোটি টাকার মতো পাওনা ছিল। কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়কারী গ্রাহকরা ওই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েন। লভ্যাংশ ঘোষণা করেও শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেয়ার অভিযোগ পিপলস লিজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চালানো হয় । সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পিপলস লিজিং কোম্পানিতে যেসব গ্রাহকরা অর্থ পাবেন তাদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় । এর আগে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক নয় পরিচালক ও দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। পিপলসের বোড অব ডিরেক্টরিতে প্রশাস্ত কুমার হালদার তার নিজস্ব আত্মীয় স্বজনদের বসান।