ফের অভিযানে সোয়া ২ কোটি টাকার কারেন্টজাল জব্দ

image

সরকার নিষিদ্ধ অবৈধ কারেন্টজাল তৈরির জন্য খ্যাত মুন্সীগঞ্জে ফের অভিযান চালিয়েছে নৌপুলিশ। নৌপুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম নিজে এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। ১২ জুন শুক্রবার রাত থেকে ১৩ জুন শনিবার পর্যন্ত টানা অভিযানে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬টি গোডাউনে হানা দিয়ে সোয়া ২ কোটি টাকা মূল্যের ৭ কোটি মিটারেরও বেশি অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে গোডাউন মালিকরা আত্মগোপন করায় কাউকে আটক করা যায়নি। পরে জব্দ করা কারেন্ট জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

অভিযানের বিষয়ে নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবেও নৌপুলিশ মৎস্য ও জলজ সম্পদ রক্ষায় স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করছে । সাক্ষাৎ মৃত্যু জেনেও নৌপুলিশের নবীন প্রবীণ সব ধরনের সদস্যরা বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। জাল তৈরির কারখানাগুলো যেন চোখে ধুলো দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জালের বিস্তার ঘটাতে না পারে তার জন্য সোচ্চার নৌপুলিশ। মুন্সীগঞ্জের অলিতে-গলিতে কঠোর নজরদারি রাখছে মুক্তারপুর নৌপুলিশ। গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রেখে সর্বোপরি বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে কারেন্টজাল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত গড ফাদারদের প্রতি।

রাতের আঁধারে কোনভাবেই যেন নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্টজাল তৈরি হতে না পারে তাই সময় সময় নৌপুলিশের মুক্তারপুর স্টেশন থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে ৭ কোটি ১৬ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্টজাল জব্দ করা হয়। এসব জালের মূল্য ২১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পঞ্চসার ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ী ও রামেরগাঁও এলাকায় ৬টি গোডাউনে এ অভিযান চালানো হয়। মুন্সীগঞ্জ সদরের পঞ্চসার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে মোট ৭ কোটি ১৬ লাখ মিটার কারেন্টজাল উদ্ধার করা হয়। ডিআইজি বলেন- ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্টজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে। সরকারের পাশে, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অকুতোভয়ে কাজ করবে নৌপুলিশ।’

নৌপুলিশের একটি সূত্র জানায়, দেশের নদ-নদীতে মাছ শিকারে অবৈধ কারেন্টজালের মূল উৎপদান মুন্সীগঞ্জে হয়। মুন্সীগঞ্জে একাধিক কারখানা রয়েছে যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে অবৈধভাবে কারেন্টজাল তৈরি করেন। এসব কারেন্টজাল দেশের উপকূলীয় জেলাগুলো বিশেষ করে যেসব জেলায় মাছ শিকারের জন্য জেলে রয়েছে তাদের জন্য বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করা হয়। ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, বরগুনা, পাথরঘাটা, চাঁদপুরসহ অনেক এলাকায় নদীতে জেলেরা কারেন্টজাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করেন। কারেন্টজাল ব্যবহারের কারণে নদীর ছোট ছোট মাছ মারা যায়। এর ফলে নদীতে মৎস্য সম্পদের পরিমাণ কমে আসতে থাকে। এসব কারণে কারেন্টজাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।