বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ কারাগারে

image

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এ এম জুলফিকার হায়াত মঙ্গলবার দুপুরে মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের পরপরই মাজেদকে প্রিজনভ্যান করে কেরাণীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আবদুল মাজেদ দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পলাতক ছিলেন। মাজেদকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সিএমএম আদালতে হাজির করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

মাজেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক জহুরুল হক আদালতে একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়,গতরাতে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে রিকশায় করে সন্দেহজনকভাবে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি (মাজেদ)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি স্বীকার করেন, তার নাম মাজেদ। তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার নির্মমভাবে হত্যার পর এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে পদে পদে বাধা আসে। তৎকালীন সেনাশাসক জিয়াউর রহমান বিচার এড়াতে দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ জারি করেন। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জনকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন। এরপর ১২ আসামির মধ্যে প্রথমে চারজন ও পরে এক আসামি আপিল করেন। কিন্তু এরপর ছয় বছর আপিল শুনানি না হওয়ায় আটকে যায় বিচার-প্রক্রিয়া। দীর্ঘ ছয় বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে আপিল বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি আবার গতি পায়। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আপিলের অনুমতির প্রায় দুই বছর পর ২০০৯ সালের অক্টোবরে শুনানি শুরু হয়। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুট্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পাঁচ আসামির আপিল খারিজ করেন।

ফলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে হাইকোর্টের দেওয়া ১২ খুনির মৃত্যুদন্ডদেশ বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়ে ১৩ বছর ধরে চলা এই মামলার বিচার-প্রক্রিয়া শেষ হলে দায়মুক্ত হয় বাংলাদেশ।

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা।

সোমবার রাতে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) অবদুল মাজেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী ও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামী পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী ও এ এম রাশেদ চৌধুরী। তারা সবাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এই পাঁচ খুনি বিভিন্ন দেশে পলাতক অবস্থায় আছেন। তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যহত আছে।

সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচির কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেতে শুরু করেছে দুদক

image

নিম্নমানের পিপিইর অনুমোদনহীন বিজ্ঞাপন এবং বিক্রি বন্ধ আইনি নোটিশ

image

বন্দি দশা থেকে শিশুদের মুক্তি দেওয়াকে স্বাগত জানাচ্ছে ইউনিসেফ

image

বজলুর রশিদের জামিন নামঞ্জুর

image

পুলিশ হাসপাতালের জন্য তিনটি ভেন্টিলেটর এবং এন-৯৫ মাস্ক দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম করোনা মোকাবিলায় পুলিশ হাসপাতালের জন্য আয়ারল্যান্ডের তৈরি

পচা খেজুর ও হলুদ রঙ্গের আম ব্যবসায়ীদেরকে জরিমানা

image

ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম চালানোর নির্দেশিকা জারি

image

রাজশাহীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক-৩

রাজশাহী মেট্রোপলিটন ও ডিবি পুলিশ নগরীর ১২টি থানার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করেছে।

জনতার হাতে আটক তিন ছিনতাইকারীদের পুলিশে সোপর্দ

image