বালিশসহ সব কাণ্ডের অনুসন্ধানে দুদক

image

রূপপুর গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্প

বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ‘বালিশ কাণ্ড’সহ মালামাল কেনাকাটা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অপর দুই সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান ও উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ। শীগ্রই এ দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করবে অনুসন্ধান টিম।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ শাখা) প্রণব কুমার ভট্টচার্য জানান, পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বালিশ কাণ্ডসহ দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কমিশনের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান টিম শীঘ্রই এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করবে।

দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান টিম জিনিসপত্র কেনার টেন্ডার নথিপত্র, কেনাকাটার বিলভাউসারসহ যাবতীয় নথি সংগ্রহ করবে। এসব নথি সংগ্রহের পার বিলভাউসারে আসবাবপত্র কেনায় যে দাম ধরা হয়েছে সেগুলো বর্তমান বাজার দরে কত সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। এর সঙ্গে সংশ্লিস্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এ দুর্নীতিতে যাদের দায়ী করা হয়েছে তাদের তবল করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দুর্নীতির তদন্তের পাশাপাশি এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সম্পদের বিষয়েও খোঁজখবর নেয়া হবে। কিভাবে দুর্নীতি হয়েছে, এ সঙ্গে কে কিভাবে জড়িত রয়েছে সেগুলো অনুসন্ধান করা হবে। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেয়া হবে। পরবর্তীতে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল কেনা ও ভবনে উত্তোলন কাজে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে গত ১৯ মে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দুর্নীতির নমুনা তুলে ধরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, আর আর সেই বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়েছে। শুধু বালিশই নয় চায়ের কেতলি, চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং অন্যান্য মালামাল কেনাকাটায় এবং তা ফ্ল্যাটে তুলতে যে পরিমাণ খরচ দেখানো হয়েছে তা রীতিমতো দুর্নীতির সব সূচককে হার মানিয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুই কমিটির তদন্তেই ৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অনিয়মের কথা ওঠে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশে গত জুলাই মাসে আদালতে জমা দেয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির জন্য ৩৪ জন প্রকৌশলীকে দায়ী করা হয়। গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ও তা ভবনে তোলায় অনিয়ম নিয়ে গত ১৬ মে গণমাধ্যমে ‘কেনা-তোলায় এত ঝাঁজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা আটটি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে বালিশ ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। প্রতিটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর খাট ওপরে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা। প্রতিটি টেলিভিশন কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা। আর টেলিভিশন ওপরে ওঠাতে দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৩৮ টাকার খরচ। বিছানার খরচ ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দেখানো হয়েছে; তা ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। প্রতিটি ওয়ারড্রোব কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা। আর তা ওঠাতে দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকার খরচ। এরকম বৈদ্যুতিক চুলা, বৈদ্যুতিক কেটলি, রুম পরিষ্কারের মেশিন, ইলেকট্রিক আয়রন, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি কেনাকাটা ও ভবনে তুলতে অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে।

আমানত হিসেবে রাখা ইয়াবা সেবন করে ফেলায় বন্ধুকে হত্যা

image

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে কোন আসামির কি কাণ্ড ছিলো!

image

হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে ক্যাসিনো খালেদ

image

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : আবরার পানি চেয়েছে দেওয়া হয়নি, হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু নেয়নি বড় ভাইয়ারা

image

মা ইলিশের লালসায় নদীতে লুঙ্গি পড়া জেলের সাজে আটক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নি প্রশাসন

image

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে খালেদ-শামীমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

image

টং এর দোকানদার টু ঢং এর কাউন্সিলর ভায়া কোন এক সাবেক প্রতিমন্ত্রী

image

স্পর্শ ছাড়াই ঘুষের টাকা স্ত্রীর কাছে পৌঁছে যেতো

image

তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

image